ফরিদপুরে যুবলীগের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সভা পণ্ড হয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ২৭ কর্মী আহত হয়েছেন। যুবলীগের হামলা থেকে রেহাই পায়নি মাইক অপারেটর এক শিশুও।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে এ ঘটনা ঘটে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা অভিযোগ করেন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান ওরফে মিঠু এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান শামীমের নেতৃত্বে রামদা, লোহার রড, বাটাম, লাঠি নিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন এ হামলা চালায়।
এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এম জিলানী ও কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী উপস্থিত ছিলেন। তবে হামলাকারীরা তাদের আঘাত না করে বেরিয়ে যাওয়ার পথ করে দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অম্বিকা হল চত্বরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। পরে কর্মিসভা উপলক্ষে বেলুন ওড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল। এরপর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন অম্বিকা হলে ঢুকে নেতৃবৃন্দসহ আসন গ্রহণ করেন। এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রথমে যুবলীগের ১০/১৫ নেতা হলরুমে হামলা করলে প্রতিরোধ করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা। এর তিন/চার মিনিট পর যুবলীগের ৫০/৬০ জন কর্মী সমাবেশে হামলা করে। স্বেচ্ছাসেবক দলের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। পিটিয়ে আহত করা হয়ে রাব্বী ইসলাম শুভ (১২) নামে মাইক অপারেটর এক শিশুকেও। পরে হামলাকারীরা ওই হল রুমের চেয়ার, সাউন্ড বক্স, মাইক্রোফোন ভাঙচুর করে।
হামলার সময় হলরুম ও তার আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য ছিল না।
হামলার ঘটনার পর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে।
তখন হামলাকারী কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ হলরুমে ছিলেন না।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর মতিউর রহমানের নেতৃত্বে এ হামলার হয়েছে।
তিনি বলেন, এ হামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাফিজ, সদর উপজেলা আহ্বায়ক আবুল কালাম, সদথা উপজেলা সদস্যসচিব মামুন হাসান, সদরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস বেপারী, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক রেজাউল তালুকদারসহ অন্তত ২৭ জন আহত হন। এর মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতাল ফরিদপুরে তিনজন ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা ওই দুই হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, হলরুমের মধ্যে এ কর্মিসভার জন্য জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, ও পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছে। পৌরসভার কাছ থেকে হলটি ভাড়া নেয়া হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সভা চলছিল অম্বিকা মেমোরিয়াল হলের ভেতর। ওই সভা চলাকালীন হামলা চালায় যুবলীগ। ফলে সমাবেশটি পণ্ড হয়ে যায়। তিনি বলেন, হামলার আগে ওই হলরুমের আশপাশে কোনো পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে ফরিদপুর পৌরসভার ২০ নম্বর কাউন্সিলর মতিউর রহমান বলেন, অম্বিকা হলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা চলছিল। জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা ওখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সমবেত হন। এ নিয়ে দুপক্ষে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। পরে আমি শুনতে পারি হলে হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হচ্ছে। এ খবর শুনে আমি পৌরসভার মালিকানাধীন মিলনায়তনটি রক্ষা করতে এগিয়ে যাই, খবর দিই ওসি কোতোয়ালিকে।
মতিউর রহমান বলেন, আমি হামলা করিনি বরং হামলার কবল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের রক্ষা করেছি। এটা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কও জানেন।
জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান বলেন, দলীয় কোন কর্মসূচি থাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীরা অম্বিকা হলের সামনে জড়ো হয়। পরে মিছিল করে অনুষ্ঠানস্থলে যায়। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুবলীগ কর্মীরা সেখানে সমবেত হয়।
তিনি বলেন, আমরা জানতাম না সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা চলছে। আমি থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের হল থেকে বের হতে সাহায্য করেছি, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে কিংবা চেয়ার, সাউন্ড বক্স ভাঙচুর করা হয়েছে তা আমার জানা নেই।
