ভারতে অবিবাহিত নারীদেরও গর্ভপাতের আইনী অনুমোদন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৫৩ পিএম

ভারতের গর্ভপাত আইনে সংশোধনী এনেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, এখন থেকে বিবাহিত নারীদের পাশাপাশি অবিবাহিত নারীরাও গর্ভপাত করতে পারবেন। এছাড়া ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ বা স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকেও অপরাধের তালিকাভুক্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

গর্ভপাতের সময়সীমাতে অবশ্য কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের সময়সীমাকেই বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গর্ভপাত করতে হলে সর্বোচ্চ ২৪ সপ্তাহের মধ্যে করতে হবে। এই সময়সীমার পর করা হলে আইনত তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

গর্ভপাত ইস্যুতে ভারতে সামাজিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও দেশটিতে এ ব্যাপারটি বহুল চর্চিত। ভারতের সমাজ-সংস্কৃতিতে কন্যা সন্তানের চেয়ে পুত্র সন্তান বেশি কাঙ্খিত, ফলে পারিবারিক ও সামাজিক কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক নারী গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন।

১৯৭১ সালে প্রথম গর্ভপাতকে বৈধ ঘোষণা করা হয় ভারতে। পরে ২০২১ সালে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গর্ভপাত আইনে সংশোধনও আনে কেন্দ্রীয় সরকার।

২০২১ সালের সংশোধিত আইনে সাধারণ বিবাহিত নারীদের পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার, মানসিক ভারসাম্যহীন, সংখ্যালঘু, গর্ভপাতের পর বিবাহবিচ্ছেদ বা বৈধব্যের শিকার এবং যেসব নারীর ভ্রুণে গুরুতর অস্বাভাবিকতা রয়েছে, তাদেরকেও গর্ভপাতের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কিন্তু সংশোধিত আইনে অবিবাহিত নারীদের অন্তর্ভুক্ত না করায় এতদিন গর্ভপাত আইনের সমালোচনা করে আসছিল ভারতের বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংস্থাসমূহ। বৃহস্পতিবারের আদেশের মাধ্যমে সেসব সমালোচনার যতি টানলো সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড়, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালের সম্মিলিত বেঞ্চ শুক্রবারের আদেশে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ থেকে মুক্তিলাভ নারীর মৌলিক অধিকার। বৈবাহিক মর্যাদা এই অধিকারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

বৈবাহিক ধর্ষণ সম্পর্কে বৃহস্পতিবারের শুনানি শেষে এই তিন বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, এখন থেকে কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে জড়ালে তাকে যৌন সহিংসতামূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত