বিমানবন্দরে প্রবাসীদের অজ্ঞান করে লুট, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩৮ পিএম

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসীকে কৌশলে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করে নেওয়া চক্রের মূল হোতা ও ১৫টির অধিক মামলার আসামি মো. আমির হোসেনকে তার তিনজন সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 

শনিবার রাজধানীর বিমানবন্দর ও কদমতলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুটকৃত স্বর্ণ-মোবাইল ও অজ্ঞান করতে ব্যবহৃত উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রবিবার (০২ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর কুয়েত প্রবাসী জনৈক ব্যক্তি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এ সময়ে বিমানবন্দরে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে টার্গেট করে ও ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার পথিমধ্যে তাকে অজ্ঞান করে তার সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ভিকটিম বাদী হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। ফলশ্রুতিতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং বিমানবন্দরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীর নিকট হতে তথ্য সংগ্রহ করে।

এরই ধারাবাহিকতায়  র‍্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর বিমানবন্দর থানা ও কদমতলী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞান পার্টির চক্রের মূল হোতা মো. আমির হোসেন (৫২) ও তার সহযোগী মো. লিটন মিয়া (৪৮), আবু বকর সিদ্দিক (৩৫) ও জাকির হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তারা সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টি চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা ৮-১০ জন। তারা বিভিন্ন পেশার আড়ালে বিগত ১৫ বছর ধরে পারস্পরিক যোগসাজসে রাজধানীর বিমানবন্দর টার্মিনালে ওত পেতে থাকে এবং বিদেশ হতে আগত ব্যক্তিদের টার্গেট করার জন্য বিমানবন্দররে টার্মিনালে হাতে পাসপোর্ট ও লাগেজ নিয়ে প্রবাস ফেরত যাত্রীর ছদ্মবেশ ধারণ করে। পরবর্তীতে এই চক্রটি এমন প্রবাসী যাত্রীদের টার্গেট করত, যার জন্য অপেক্ষমান কোনো আত্মীয়-স্বজন বা গাড়ি নেই। তারা কৌশলে বিদেশ ফেরত ব্যক্তির সঙ্গে কুশল বিনিময় করে চক্রের অন্য সদস্যদের তাদের সঙ্গে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের সঙ্গে একই এলাকার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করত। গাড়ি বা বাসে ভ্রমণের সময় চক্রের সদস্যরা টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ মিশ্রিত বিস্কুট খাইয়ে অচেতন করত। পরে তার নিকট হতে যাবতীয় মালামাল নিয়ে চক্রটি পরবর্তী স্টেশনে নেমে যেত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত