জামালপুরে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ ও ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী লাকী বেগম জ্যোৎস্না।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আমার বাবাকে ‘হত্যা করা হয়েছে’ উল্লেখ করে আটজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু আমার বৈমাত্রেয় বোন একই ঘটনায় মেলান্দহ থানায় করেন ‘অপমৃত্যুর মামলা।’ এমন পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করছে। আমি চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য গেলে ডা. হারুন অর রশীদ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার জন্য আমার নিকট এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, তার দাবিকৃত টাকা দিলে আমার দাখিলকৃত মামলা মোতাবেক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেবেন। ডা. হারুন অর রশীদের চাহিদামতো চাচাতো ভাইয়ের উপস্থিতিতে ৮৩ হাজার টাকা প্রদানও করি। অবশিষ্ট ১৭ হাজার টাকা দিতে পারিনি। তাই ডা. হারুন মামলার আসামিদের কাছ থেকে বেশি টাকা গ্রহণ করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেন।
লাকী বেগম জ্যোৎস্না আরও বলেন, ডা. হারুন আমাকে ধোঁকা দিয়ে ৮৩ হাজার টাকা নেন। প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে একাধিকবার ডাক্তারের কাছে যাতায়াতে প্রায় আমার ৩০ হাজারের বেশি টাকা খরচ হয়েছে। সবমিলিয়ে আমার আর্থিক ক্ষতি ১ লাখ ১৩ হাজার টাকার বেশি।
অভিযোগকারী লাকী বেগম জ্যোৎস্না মেলান্দহ উপজেলার সাধুপুর এলাকার মৃত ছমির মোল্লার মেয়ে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক, বানোয়াট ও ‘মিথ্যা’ অভিযোগ এটি। আমি এর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।
