ছোট্ট মাটির পাত্রে পূর্ণ গাছের আদলে বট, ফাইকাস, জেড, চাইনিজ এলম, পডোকার্পাস, জেলকোভা এমন যে গাছগুলো সহজে বেঁচে থাকতে পারে তাদের ছোট আকারে সুন্দর করে বাঁচিয়ে রেখে যে শিল্প গড়ে উঠেছে তার নাম বনসাই। দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে গাছের সৌন্দর্য আর অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে আর বহু প্রাচীন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বাড়িতে বাড়িতে বনসাইয়ের চর্চা করা জরুরি বলে মনে করেন বনসাই বোদ্ধারা। তারা বলেন, বনসাই প্রকৃতির অংশ দিয়ে তৈরি অপরূপ সৌন্দর্য হতে পারে শৌখিন শোপিস। শুক্রবার (৭ অক্টোবর) ধানমন্ডির ডাব্লিউ.ভি.এ. মিলনায়তনে রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটি আয়োজিত '১২তম বার্ষিক বনসাই প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন আগত অতিথিরা।
এবারের প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য সজীব-সতেজ বনসাই শহরের মানুষের কাছে তুলে ধরা। প্রধান অতিথি হিসেবে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ৩২৮১ ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর ইঞ্জিনিয়ার এম. এ. ওয়াহাব এবং ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা।
বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই তৈরিতে কাজ করেন, এমন শিল্পীদের সংগঠন রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটি, যারা দীর্ঘ একযুগ ধরে প্রদর্শনীটির আয়োজন করে আসছেন। রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির সভাপতি গুলশান নাসরীন চৌধুরী জানান, ' আমাদের দেশে শিল্পকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বনসাই শিল্পীরা নিজেদের ভালোবাসা থেকে সময়, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে বনসাই তৈরী করে চলেছেন। প্রাচীন এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন। শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সহযোগিতা করতে হবে। সবুজ কমে যাচ্ছে। শহরে ক্রমেই বাড়ছে অক্সিজেন ঘাটতি। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় বাড়িগুলো বনসাই দিয়ে সাজাতে হবে।'
আয়োজকরা জানান, বনসাই খুব ছোট পাতার এবং দীর্ঘদিন বাঁচে এমন গাছ দিয়ে করা হয়। তবে আমাদের চেষ্টা থাকে বিলুপ্তপ্রায় দেশি গাছগুলো সংরক্ষণের। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই প্রদর্শন করা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা চাইলে বনসাই কিনতেও পারবেন। একহাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের বনসাই পাওয়া যাচ্ছে প্রদর্শনীতে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়িতে প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
