১৯ বছর পর হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৪০ পিএম

বগুড়ায় ২০০৩ সালে শাহজাহান হত্যা মামলায় সদরের শেখেরকোলা ইউপি চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রশিদ মৃধাসহ ১১ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাবিবা মণ্ডল এই রায় ঘোষণা করেন। 

এতথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাছিমুল করিম হলি।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বিপ্লব মিয়া, রাসেল, জুয়েল প্রাং, সবুজ আকন্দ, উজ্জ্বল আকন্দ, আব্দুল হান্নান, পিলু খন্দকার, মোকলেছার রহমান মুকুল ও আব্দুল হামিদ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শেখেরকোলা ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে আব্দুস সাত্তার খা এবং রশিদুল ইসলাম ওরফে রশিদ মৃধা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে রশিদ মৃধা জয়লাভ করে ১১ ফেব্রুয়ারি তার দলীয় কর্মীদের নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পথিমধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেখেরকোলা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান ও একই এলাকার আব্দুল মান্নানের সঙ্গে রশিদ মৃধার দেখা হলে ভোট না দেওয়ার অভিযোগ তুলে শাহজাহানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিতে থাকে। রশিদ মৃধার এমন হুমকি পেয়ে তার সহযোগিরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শাহজাহানের ওপর আক্রমণ করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহান ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে মারা যান। ওইদিনই রশিদ মৃধাকে প্রধান আসামিকে ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই মাহমুদুর রহমান। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সদর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ১১ জুন রশিদ মৃধাকে প্রধান আসামিকে ১১ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাছিমুল করিম হলি জানান, এ মামলায় আদালত ১১ জনের সাক্ষ্য নেন। সাক্ষ্য ও অন্য তথ্যের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত