পাকিস্তানকে ১৭৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪৯ এএম

সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচে তিনে নেম ভালো শুরুর পর এবার ওপেনিংয়ে নেমে ব্যর্থ সৌম্য সরকার। তাতে পাওয়ার প্লেতে খুব একটা বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে লিটন দাস ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথ খুঁজে পায় টাইগাররা। দুজনের ফিফটি করে বিদায়ের বাকিটা পথ যেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। তাতে শেষ ম্যাচে এসে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দলীয় সর্বোচ্চ ১৭৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করেছেন সোহানরা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনে নেমে দুর্দান্ত খেলেছিলেন সৌম্য সরকার। তাতে ব্যাটিং অর্ডারে তাকে প্রমোশন দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। ব্যক্তিগত ঝুলিতে মাত্র ৪ রান যোগ করেই আউট হয়ে যান সৌম্য। তাতে পাওয়ার প্লেতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটি ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। আজ শেষ ম্যাচেও সেটাই দেখা গিয়েছে। আগের ম্যাচে লিটন দাসের সঙ্গে ওপেন করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে আজ টাইগাররা ফের বদল এনেছিল উদ্বোধনী জুটিতে। শান্ত ও সৌম্য সরকার নেমেছিলেন ওপেন করতে। কিন্তু পরিবর্তনেও খুব একটা ফল আসেনি।

ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলটি একটু না উঠলেই নাজমুল বোল্ড হতেন! মাত্র ১ রান দিয়ে দারুণ শুরু করেন পাকিস্তানের পেসার নাসিম শাহ। প্রথম ওভারেই নাসিম শাহর পেসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে শান্তর। মোহাম্মদ হাসনাইনের করা দ্বিতীয় ওভারে জোর করে লেগে খেলতে গিয়ে বেঁচে গেছেন।

শান্তু দুইবার বেঁচে গেলেও পার পাননি সৌম্য সরকার। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে নাসিম শাহকে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দেন সৌম্য। গুড লেংথের বলটি মারার চেষ্টা করলেও টাইমিং ঠিকমতো না হওয়ায় মাথার ওপরে ক্যাচ ওঠে। ৪ বলে ৪ রানে ফিরে সুযোগটা নষ্ট করা সৌম্যকে টিম ম্যানেজমেন্টের পরীক্ষা তাই কাজে আসেনি।

সৌম্যের বিদায়ের পর বেশকয়েকটি দৃষ্টিনন্দর শট খেলেন লিটন দাস। হাসনাইনের একই ওভারে তৃতীয় বলটি উঠে আসায় টেনে স্ট্রেটে চার মারেন লিটন। এটি যদি সুন্দর শট হয় পরেরটি তাহলে ফ্রেমে বেঁধে রাখার মতো! ডাউন দ্য উইকেট এসে সোজা ব্যাটে হাসনাইনের মাথার ওপর দিয়ে চার। গর্জিয়াস! কোনো বোলারই এমন শট পছন্দ করবে না। ওভারে তিন চার হজম করেন হাসনাইন।

তবে পঞ্চম ওভারেই আউট হয়ে যেতে পারতেন লিটন। হাসনাইনের শেষ বলে পয়েন্টে লিটনের ক্যাচ ফেলেন শান মাসুদ। এখানেই শেষ নয়, লিটনকে ফেরানোর আরও একটা সুযোগ এসেছিল পাকিস্তানের সামনে। নানা নাটকীয়তায় ফের বেঁচে যান তিনি।

ঘটনাটি পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে। ততক্ষণে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। ক্রিজে এসে লিটনের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ওয়াসিমের বলটি লেগে খেলার চেষ্টা করেছিলেন সাকিব। একবার রান নেওয়ার কথা ভেবে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। লিটন ততক্ষণে পিচের অর্ধেক পেরিয়ে গেছেন! নন স্ট্রাইকে দাঁড়ানো বোলার ওয়াসিম হাতে বল পেয়েও কীভাবে উইকেট ভাঙতে পারলেন না তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। নিশ্চিত রান আউট থেকে বেঁচে যান লিটন।

পাওয়ার প্লেতে সব পেসারদের ব্যবহার করেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। কিন্তু সপ্তম ওভারেই নিয়ে আসেন স্পিনার। শাদাব খানকে আক্রমণে আনলে মাত্র তিন রান নিতে পারেন টাইগার ব্যাটাররা। তবে রক্ষা পাননি মোহাম্মদ নওয়াজ।

অন্য প্রান্ত থেকেও আরেক স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজকে বোলিংয়ে আনেন বাবর। তৃতীয় ও পঞ্চম বলে তাঁকে দুটো চার মারেন লিটন এবং সাকিব। শেষ বলে কর্ণারের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মারেন সাকিব। নওয়াজের প্রথম ওভার থেকেই ১৭ রান তুলে নেন দুই টাইগার ব্যাটার। পরের ওভারে শাদাবকেও হজম করতে হয়েছে ছক্কা। হাঁটু গেড়ে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত শটে লিটন মারেন এক ছক্কা।

শেষ পর্যন্ত লিটন দাস ফিরেছেন নিজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে। ইনিংসের ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে নওয়াজকে সুইপে তুলে মারতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ওয়াসিমকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন লিটন। ২ ছক্কা ও ৬ চারে ৪২ বলে ৬৯ রান করেন এই ব্যাটার। এর মধ্য দিয়ে ভাঙে লিটন-সাকিবের ৫৫ বলে ৮৮ রানের জুটি।

লিটনের বিদায়ের পর সাকিবও বেশিক্ষণ টিকে থাকেননি। নিজের দ্বাদশতম অর্ধশতকের পর ৪২ বলে ৬৮ রান করে ফিরে যান। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭ চার ও ৩ ছক্কায়। তাদের ব্যাটে ভর করে পাকিস্তানকে ১৭৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত