চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস শুরু হয়েছে আজ। বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের গ্রেট হলে কম্যুনিস্ট পার্টির ২৩০০ ডেলিগেট বা প্রতিনিধি এক সপ্তাহের জন্য জড়ো হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে এবারের কংগ্রেসে শি জিনপিংকে তৃতীয় দফায় আরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব অনুমোদন করা হবে যা চীনের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করবে। মাও সে-তুংয়ের পর দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে আবির্ভুত হবেন শি জিনপিং।
এমনিতেই শি জিনপিংকে মাও সে তুংয়ের পর সবচেয়ে ক্ষমতাধর চীনা নেতা হিসাবে দেখা হয়। তৃতীয়বারের মত প্রেসিডেন্ট হতে পারলে চীনের ক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত হবে। অনেকেই মনে করেন এমনও হতে পারে যে ৬৯ বছরের শি আজীবনের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখবেন।
বর্তমানে শি জিনপিং চীনের শীর্ষ তিনটি সবচেয়ে ক্ষমতাধর পদ ধরে রেখেছেন- জেনারেল সেক্রেটারি হিসাবে তিনিই চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির এক নম্বর নেতা, প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনিই চীন রাষ্ট্রের প্রধান, কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি চীনের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কম্যান্ডার।
ধারণা করা হচ্ছে এবারের কংগ্রেসেও শি তার প্রথম দুটো পদ ধরে রাখবেন- দলের সেক্রেটারি জেনারেল এবং সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান।
প্রতি পাঁচ বছরে একবার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস হয়। কংগ্রেসে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় কংগ্রেস শুধু ‘পার্টি কংগ্রেস’ নামে পরিচিত। মূলত নতুন নেতা নিয়োগেই এই কংগ্রেস বসে। কংগ্রেসে দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়। দেশের জন্য একটি নীতি অ্যাজেন্ডা তৈরি করা হয়।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যসংখ্যা ৯ কোটি ৬৭ লাখ। দলটির কংগ্রেস সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসে পুরো দেশ থেকে ২ হাজার ২৯৬ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। প্রতিনিধিরা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ২০৪ জন সদস্য বাছাই করবেন।
কেন্দ্রীয় কমিটি পরে ২৫ সদস্যের পলিটব্যুরো নির্বাচন করবেন। পলিটব্যুরো থেকে হবে ৭ সদস্যের স্ট্যান্ডিং কমিটি। চীনের সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী এই কমিটি।
কেন্দ্রীয় কমিটি দলের সর্বোচ্চ নেতা বা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে। কংগ্রেসের ধারাবাহিকতায় দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবার শির নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
আগামী মার্চ মাসে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক বৈঠক বসবে। শি দলের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকলে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বৈঠকে তাকে আরেক মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট করা হবে।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে ভোট হলেও প্রক্রিয়াটিকে একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়। এটা সত্যিকারের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়। কংগ্রেসের অনেক আগেই ‘আসল’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কংগ্রেস শেষ হওয়ার পরপরই নবগঠিত ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটি তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের জন্য মিলিত হবে। এই অধিবেশনে পলিটব্যুরো ও স্ট্যান্ডিং কমিটি নির্বাচিত হবে।
শি ইতিমধ্যে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকাংশে নির্মূল করেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি দলের প্রবীণ নেতাদের শক্তিও কমিয়ে দিয়েছেন। এই প্রবীণ নেতারা অতীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির কর্তৃক নির্বাচিত হওয়ার পর দলের নতুন শীর্ষ নেতারা গুরুত্বের ক্রমানুসারে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রবেশ করবেন।
নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শি ২০১৭ সালের মতো এবারও শীর্ষ নেতাদের এই দলকে আনুষ্ঠানিকতায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্য সদস্যদের তিনি পরিচয় করিয়ে দেবেন। এই আনুষ্ঠানিকতা চীনের জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।
কারা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন সেদিকে নজর থাকবে চীনা পর্যবেক্ষকদের। কারণ, শির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আছে নাকি তিনি কোনো ছাড় দিয়েছেন, তা এই কমিটি দেখে বোঝা যাবে।
একই সঙ্গে এই কমিটির মধ্যেই একজন সম্ভাব্য উত্তরসূরি খুঁজবেন পর্যবেক্ষকেরা। শি কত দিন শাসন করতে চান, সে বিষয়ে একটি সূত্র দিতে পারে এই কমিটি।
এবারের কংগ্রেস যে কারণে ভিন্ন
সাধারণত প্রতি কংগ্রেসে নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের কংগ্রেস থেকে শি ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন। তিনি দল, রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তৎপর হন।
যেমন গত কংগ্রেসে শি একটি ঐতিহ্য ভাঙেন। তিনি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে সম্ভাব্য কোনো উত্তরসূরিকে উন্নীত করেননি।
তারপর কয়েক মাস পর চীনের ‘রাবার-স্ট্যাম্প’ আইনসভা দেশটির প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা বাদ দেয়। শি যে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে চান, এই পদক্ষেপে তার ইঙ্গিত মেলে। পাশাপাশি তিনি দলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেন।
দলের সাধারণ সম্পাদকের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মেয়াদসীমা নেই। তবে দলের শীর্ষস্থানের ভূমিকায় থাকার জন্য শিকে আরেকটি অলিখিত নিয়ম ভাঙতে হবে। সেটি হলো, অনানুষ্ঠানিক বয়সসীমা।
নিয়মটি হলো, দলের কংগ্রেসের সময়ে ৬৮ বছর বা তার বেশি বয়সী জ্যেষ্ঠ নেতারা অবসর নেবেন। শির বয়স এখন ৬৯ বছর। তিনি ক্ষমতায় থাকার মাধ্যমে নিয়মটিকে ভাঙতে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যদের এই ছাড় তিনি দেবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, শির নতুন দফার শাসনামলে চীনে কর্তৃত্ববাদী শাসন আরো শক্ত হবে। তাদের মতে, শির শাসনাধীনে চীন পুরোমাত্রায় একটি একনায়ক রাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মাও সে তুংয়ের সময় যেমন একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি তেমন না হলেও চীন সেদিকেই এগুচ্ছে।
কংগ্রেসে নির্বাচিত নতুন নেতৃত্ব চীনের জন্য বহু নতুন নতুন নীতি তুলে ধরবে। চীন আগামী দিনগুলোতে কোনে পথে যাবে সে ব্যাপারে যে কোনো ইঙ্গিতের দিকে বাকি বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি এবং পরিবেশ নিয়ে চীনের ভবিষ্যত চিন্তাভাবনা বাকি বিশ্বের জন্য এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্বোধনী ভাষণে যা বললেন শি জিনপিং
চীনা সমাজতন্ত্রের স্বরূপ কী হওয়া উচিৎ সে সম্পর্কে শি জিনপিংয়ের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা রয়েছে। তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে দৃঢ় জাতীয়তাবাদ। ব্যক্তি খাতের ব্যবসা নিয়ে তিনি সন্দিহান। শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারাই দলের জন্য অনুসরণীয় দর্শন হয়ে পড়তে পারে। তার শাসনামলে চীনা কর্তৃপক্ষ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের খুবই বড় কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর চড়াও হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উদ্বোধনী ভাষণে শি আশা প্রকাশ করেন, নতুন উন্নয়নের পদ্ধতির আলোকে উচ্চমানের উন্নয়ন সাধন করবে চীন। তিনি বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ গড়তে, আমাদের অবশ্যই সর্ব প্রথম ও সবার আগে, উচ্চমানের উন্নয়ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে’।
শি আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সব ক্ষেত্রে নতুন উন্নয়ন দর্শনকে সম্পূর্ণভাবে ও বিশ্বস্তভাবে প্রয়োগ করতে হবে, সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির বিকাশের জন্য সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে, উচ্চমানের উন্মুক্তকরণের প্রচার করতে হবে, দেশীয় অর্থনীতির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উন্নয়নের একটি নতুন পদ্ধতিকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে হবে’।
শি জানান, নতুন শিল্পায়নকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাসহ শিল্পব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা হবে এবং উৎপাদন, পণ্যের গুণমান, মহাকাশ, পরিবহন, সাইবারস্পেস ও ডিজিটাল উন্নয়নে চীনের শক্তি বাড়ানো হবে।
রবিবার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক কংগ্রেসের উদ্বোধনী ভাষণে শি জিনপিং আরও বলেন, হংকংয়ের ওপর যেভাবে নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে চীন সেভাবে তাইওয়ানের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে বড় সংগ্রাম চালাচ্ছে চীন। (হংকংয়ের মতো তাইওয়ানেও) আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরোধিতা করতে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও সক্ষম।
এমনকি তাইওয়ান সমস্যা সমাধান করা চীনা জনগণের ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে জিনপিং বলেন, চীন কখনোই (তাইওয়ানের বিরুদ্ধে) শক্তি প্রয়োগের অধিকার ত্যাগ করবে না। তবে দ্বীপটিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য চেষ্টা করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তাইপেই সরকারের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে তার নিজস্ব এলাকা হিসেবে দেখে থাকে। তবে চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ানের দাবি, শুধুমাত্র দ্বীপের জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।
মূলত তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। তার ওপর গত আগস্টে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ানে সফর উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এর জেরে পেলোসির সফরের পরপরই তাইওয়ানের চারপাশে বিশাল সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। সেসব মহড়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। যদিও তা সীমিত পরিমাণে এবং মহড়ার মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে চীনের সশস্ত্র বাহিনী।
এই পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম পার্টি কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীন সবসময় তাইওয়ানের জনগণকে ‘সম্মান করে, যত্ন করে এবং উপকৃত করে’ এবং তাইওয়ান প্রণালীজুড়ে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও এগিয়ে নিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘তাইওয়ান সমস্যার সমাধান করা চীনা জনগণের নিজস্ব কাজ এবং এটি চীনা জনগণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ আন্তরিকতা এবং সর্বোত্তম প্রচেষ্টার সাথে শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনের সম্ভাবনার জন্য প্রচেষ্টা চালানোর ওপর জোর দিচ্ছি। তবে আমরা শক্তির ব্যবহার ত্যাগ করার এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ছাড়বে না।’
প্রেসিডেন্ট জিনপিং বলেন, তাইওয়ানে বহিরাগত শক্তির ‘হস্তক্ষেপ’ আটকানো এবং তাইওয়ানের বিশাল জনগণের বিপরীতে ‘খুব অল্প সংখ্যক’ স্বাধীনতা সমর্থকদের আটকাতেই এই বিকল্প হাতে রাখা হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘জাতীয় পুনর্মিলন ও জাতীয় পুনরুজ্জীবনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে এবং মাতৃভূমির সম্পূর্ণ পুনর্মিলন অবশ্যই অর্জন করতে হবে। এটি অবশ্যই অর্জন করতে হবে!’
রয়টার্স বলছে, ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ মডেলের মতো তাইওয়ানকে স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। মূলত একই কৌশল চীন হংকংয়েও ব্যবহার করে। তবে তাইওয়ানের মূলধারার সকল রাজনৈতিক দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জনমত জরিপ অনুসারে এটির প্রায় কোনো জনসমর্থন নেই।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। অবশ্য তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং।
গত বছরের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, মূল ভূখণ্ডের সাথে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য সামরিক পথে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টিও খোলা রেখেছে বেইজিং।
অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়, বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। চীনা প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের জবাবে সেসময় তাইওয়ান জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ তার জনগণের হাতেই থাকবে।
১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করার পর তাইওয়ান দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
