খুলনায় বিএনপির সমাবেশ: বাগেরহাটে ‘মারমুখী’ আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩৬ পিএম

বাগেরহাটে বিএনপির সমাবেশে না যেতে আওয়ামী লীগ নেতা হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নেতারা বলেন, ‘এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, সবাইকে এলাকায় থাকতে। কেউ যেন সমাবেশে না যায়। এলাকায় সবাই মিলে মিশে থাকি, তা যেন হয়। তারা বলছেন, ঝামেলায় পড়তে না চাইলে এলাকায় থাকিস’।

শনিবার খুলনা মহানগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিভাগীয় গণসমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপি। বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ সামনে রেখে দুই দিন বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তারপরও বিভিন্ন উপায়ে দলটির নেতাকর্মীরা খুলনা যাচ্ছেন।

তবে তাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার থেকে এলাকায় এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ডেকে সমাবেশে না গিয়ে সবাইকে এলাকায় থাকার হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে জেলার প্রায় সব এলাকায় মারমুখী শাসক দলের নেতাকর্মীরা। সকালে ঢাকাগামী গণপরিবহনও যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যেতে দেয়নি তারা। ট্রাক-মাইক্রোবাস থামিয়ে চেক করা হচ্ছে ফকিরহাট, নওয়াপাড়া, কাটাখালীসহ বিভিন্ন মোড়ে।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম বলেন, শাসক দলের আগ্রাসী আচরণ বলে দিচ্ছে বিএনপির পক্ষে সাধারণ মানুষের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ ভীত হয়ে পড়েছে। তারা গাড়ি বন্ধ করেছে যাতে সমাবেশে মানুষ যেতে না পারে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের খুলনা যাওয়ার পথে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং মারধর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সকাল থেকে তারা ভীষণ মারমুখী। বাসস্ট্যান্ড, বারাকপুর, যাত্রাপুরসহ খুলনা যাওয়ার সব পথে তারা বাধা দিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এর মাঝেও মানুষ সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছে।

বিএনপির করা অভিযোগ নাকচ করে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, বাগেরহাট বাস মালিক সমিতি তাদের নানা দাবিতে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। রাস্তায় যারা অবস্থান করছে তারা বাস মালিক সমিতির। তারা পথে কাউকে বাধা দিচ্ছে কি না তা আমার জানা নেই।

এদিকে খুলনাসহ সকল রুটে গণপরিবহণ শুক্রবার ভোর থেকে বন্ধ করে দিয়েছে মালিক সমিতি শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসারা চাকরী প্রার্থীরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইক ও পায়ে হেঁটে পরীক্ষার্থীরা এসেছেন কেন্দ্রে। তবে সব ক্ষেত্রে ছিল পথে পথে আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগসহ শাসক দলের নেতাকর্মীদের বাধা।

সরেজমিনে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, স্ট্যান্ডের সব পরিবহণ কাউন্টার বন্ধ। খুলনা ছাড়াও জেলার সব এলাকা থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ অন্যান্য রুটের বাস বন্ধ। লাঠি হাতে মোড়ে পাহারা দিচ্ছেন সরকার সমর্থকরা। ভ্যান-রিকশা, ইজিবাইকও আটকাচ্ছেন। খুলনার দিক থেকে যাত্রী নিয়ে আসা ইজিবাইক চালকদেরও বকাঝকা করা হচ্ছে।

বাস মালিক সমিতি বলছে, সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন, মহেন্দ্র, ইজিবাইক ও বিটিআরটিসির গাড়িগুলো চলাচল করছে। এ জন্য ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

বাগেরহাট আন্তজেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম মন্টু বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাড়সড়কে মহেন্দ্র, ইজিবাইকসহ অবৈধ যান বন্ধের দাবিতে এ পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে মালিক-শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে না প্রশাসন। তাই আমরা ধর্মঘট ডেকেছি। বিএনপির কর্মসূচির সাথে এই ধর্মঘটের সম্পর্ক নেই।

সড়কে যান চলাচলে বাধা দেওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সমন্বয়ক পরিদর্শক এস এম আশরাফুল আলম বলেন, সড়কে কোথাও যান চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন তথ্য নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত