ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমেই সুর চড়াচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। ইউক্রেন যুদ্ধে তেহরান মস্কোকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুধু তা-ই নয়, এই অজুহাতে তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তাও করছে তারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত শুরু হয়। এরপর প্রায় আট মাস ধরে সেই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এ সংঘাতের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে ইউক্রেনের বিশাল একটা অঞ্চল দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে হামলা আরও জোরদার করেছে। এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাশিয়ার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সংঘাতের শুরু থেকেই কিয়েভকে সামরিক, আর্থিক ও মানবিক সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে পশ্চিমা বিশ্ব। সেই সঙ্গে নানাভাবে রাশিয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার পাশাপাশি এবার পশ্চিমের টার্গেট ইরান। ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে নজর সরিয়ে নজর এখন ইরানি ড্রোনে।
ইউক্রেনের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন শহরের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর ‘কামিকেজ’ নামে এক ধরনের আত্মঘাতি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। আর এই ড্রোন ইরানের তৈরি। ইউক্রেন আরও বলেছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে তাদের সেনাবাহিনী অন্তত ২২০টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
তেহরান মস্কোকে ড্রোন সরবরাহ বা তা উৎক্ষেপণে সহায়তা করার কথা নাকচ করেছে। ইরানের অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর খবর প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়াও। ক্রেমলিন বলছে, ইউক্রেনে ইরানি ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে ড্রোন হামলায় রাশিয়াকে সরাসরি সহায়তা করছে ইরান। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ড্রোন চালাতে ইরানি সামরিক বাহিনীর কর্মীরা ক্রিমিয়ায় অবস্থান করে রুশ বাহিনীকে সহায়তা করছে।
হোয়াইট হাউসের এ কর্মকর্তার কথায়, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইরানি সামরিক কর্মীরা রয়েছেন এবং ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে রাশিয়াকে সহায়তা করছেন’।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের জনগণের বিরুদ্ধে ইরান এই যে অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবস্থা করছে, তা উন্মোচন, প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সব উপায় অবলম্বন করতে যাচ্ছে।
কিরবি বলেন, ‘ইউক্রেনের জনগণের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহার করায় রাশিয়া ও ইরানের অস্ত্র বাণিজ্যের ওপর আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতভাবে জোরদার করছি’।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রাশিয়া ও ইরানকে আবারও নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে হোয়াইট হাউস। জন কিরবি বলেন, ‘আমরা রাশিয়া ও ইরান উভয়েরই ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও জোরালোভাবে প্রয়োগ করতে যাচ্ছি’।
ইউক্রেনে ইরানি ড্রোন ইস্যুতে ইরানের ওপর এরই মধ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ কাউন্সিলের বর্তমান সভাপতি দেশ চেক রিপাবলিক বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ ও ইউক্রেনে ব্যবহারের কারণে তিন ইরানি কর্মকর্তা ও এক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে ইইউ।
এদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানি ড্রোন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলও। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ।
লাপিদের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাপিদ ও দিমিত্র কুলেবারের মধ্যে ফোনালাপের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের সবশেষ অবস্থা জানেন এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল ইউক্রেনের জনগণের পাশে থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাদের ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সম্পর্কের ব্যাপারে তার গভীর উদ্বেগের কথা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র এক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইরানের ড্রোন রাশিয়াকে সরবরাহ করা হয়েছে।
