তামিম ইকবালের বিদায়ে ওপেনিং জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তা শেষই হচ্ছে না টাইগারদের। লিটন দাস এই জায়গাতে অনেকটাই সফল। কিন্তু তাকে নিয়ে করা হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কখনও তিনে, কখনও আবার চারে। বিশ্বকাপেও কি তাকে নিয়ে একইভাবে নাড়াচাড়া করা হবে, নাকি ফেরানো হবে ওপেনিংয়ে! এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
উদ্বোধনী জুটির এআ অস্থিরতার পালায় যার অবস্থান স্থির থাকার কথা, প্রশ্নটা বেশি মূলত তাকে ঘিরেই। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ২০০ রান করেছেন, এমন ওপেনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট লিটন কুমার দাসের (১৩২.৮০)। অথচ গত বিশ্বকাপের পর থেকে এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত স্রেফ ৬টি ম্যাচে তাকে ওপেন করানো হয়েছে। এই ম্যাচগুলিতে তার গড় ২৯.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১৪৯.৫৭।
অথচ গত মাসে দুবাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ, নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলিয়ে ৬ ম্যাচে স্রেফ একবার তাকে দেখা গেছে ওপেনিংয়ে। নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নটিও এলো। কিন্তু টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান গণমাধ্যমকর্মীকে করে বসলেন পালটা প্রশ্ন।
বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ের বিবেচনায় লিটন কতটা আছেন, সেই প্রশ্নে সাকিবের ঝাঁঝাল উত্তর, ‘আপনার কি মনে হয় লিটন ওপেন করলেই বা ওপেনার ঠিক হয়ে গেলেই আমরা জিতব?’
ওপেনিংয়ে লিটনের ভালো পারফরম্যান্সের কথা মনে করিয়ে দিতেই সাকিবের উত্তর, ‘আপনি যেভাবে বলছেন, ডিসিশন মেকারের জায়গায় আপনাকে রাখতে হবে।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক কথাটি বললেন হাসতে হাসতে। সাকিবের শব্দচয়ন আর খুশি হওয়ার প্রকাশে ওপেনিংয়ে লিটন দাসের ফেরার সম্ভাবনা খুব একটা আছে বলে মনে হয় না।’
ম্যাচের আগের দিন কিংস্টন টুইন ওভাল মাঠে অনুশীলনে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামলেন সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসের সঙ্গে সাকিব নিজেও। প্রথম তিনজনই থাকার কথা শুরুর জুটির বিবেচনায়। সাকিবের ওপেন করার সম্ভাবনা নিশ্চয়ই সামান্যতমও নেই। সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি প্রশ্নই তাই সহায়। সাকিব সেই প্রশ্নে শুরুতে বোঝাতে চাইলেন, দলের সবাইকেই যে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
‘এখানে ১৫ জন খেলতে এসেছে। সবাই তৈরি এবং ফিট। প্রতিটি পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার মতো সক্ষমতা রাখে। আমরা চাই আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই সবাই সেটা পারবে, ওপেন মাইন্ডেড থাকবে। দলের প্রয়োজনে যাকে যখন যেখানে খেলতে হয় বা যে পজিশনে বা যত ওভার বোলিং করা লাগে, যে জায়গায় ফিল্ডিং করা লাগে, সবাই সেটার জন্য প্রস্তুত থাকবে।’
