চাল কেনার টাকা নেই তাই বৃষ্টিতেও কলার ঝাঁকা নিয়ে ফুটপাতে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৪১ পিএম

টানা বৃষ্টির মধ্যে রাজধানীর বড় বড় দালানের মানুষ যখনক খিচুড়িভোজ ও অলসঘুমে কাতর ঠিক তখন চাল কেনার টাকা যোগাতে কলার ঝাঁকা নিয়ে রায়সাহেব বাজার এলাকার ফুটপাতে বসেছেন মোহাম্মদ মোহোর আলী। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দু'টুকরো পলিথিন দিয়ে দুই ঝাঁকা কলা ও নিজেকে কোনো রকমে ঢেকে রেখেছেন তিনি। শরীরের বামপাশ প্যারালাইজড হওয়ায় ঠিক ভাবে হাঁটতে পারেন না। স্ত্রীর সাহায্যে লাঠিতে ভর করে চলতে হয়। কিছু টাকা লাভ হলে তা দিয়ে চাল কিনে বাসায় ফিরবেন।

মোহোর আলীর বয়স ৭০ এর বেশি। ঠিক বয়স মনে নেই তার। তিন ছেলেমেয়ে থাকার পরেও একা তিনি। স্ত্রীসহ থাকেন পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায়। দু বেলা ভাতের জন্য ফুটপাতে কলা বিক্রি করে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন।

'ছেলেমেয়েরা আলাদা হয়ে গেছে। তবুও কারো কাছে হাত পাতিনি। সন্তানদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। ওরা ভালো থাকুক।' এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে এই প্রতিবেদকের কাছে নিজের না বলা কথা তুলে ধরেন মোহোর আলী।

তিনি বলেন, 'জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ  এলাকায় বাড়ি ছিল।তিন ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই ছিলাম। দোকানদারি করে সন্তানদের বড় করেছি। পনেরো বছর আগে স্ট্রোক করি। শরীরের বামপাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। আগের মতো উপার্জন করতে পারি না। ঠিকভাবে হাঁটতে পারি না। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগে। ছেলেমেয়েরা চিকিৎসার টাকা দেয় না। যে যার যার মতো আলাদা হয়ে গেছে। শুধু আমার স্ত্রী আমাকে ছেড়ে যায়নি।'

'মনে কষ্ট নিয়ে বাধ্য হয়ে স্ত্রীর সাথে ১৫ বছর আগে জামালপুর থেকে ঢাকায় আসি। ছোট একটি রুম ভাড়া করে থাকি। ফুটপাতে কলা বিক্রি করে সারাদিন যা পাই। তা দিয়েই দু'জনের সংসার চলে। যা লাভ হয় তার কিছু টাকা রুম ভাড়ার জন্য রাখি আর বাকি টাকা নিজেদের খাওয়ার খরচ। প্রতি মাসে চার হাজার টাকা রুম ভাড়া দিতে হয়। কিছু টাকা বাঁচলে তা দিয়ে নিজের চিকিৎসা করি আর না বাঁচলে করি না।  মাছ-মাংস কিনতে পারি না। শেষ গরুর মাংস খেয়েছিলাম কোরবানির সময়। দু-বেলা ডাল ভাত খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। তবুও কারো কাছে হাত পাতিনি।'

মোহোর আলী আরও বলেন, আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি। দু'ঝাঁকা কলা এনেছি। রাস্তায় মানুষ কম। তেমন বিক্রি হয়নি।এই কলাগুলো বিক্রি করতে না পারলে কলাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়েই বসে আছি। উপায় নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত