খাড়গের হাতে কংগ্রেসের দায়িত্ব তুলে দিলেন সোনিয়া গান্ধী

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৩২ পিএম

বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। খাড়গের হাতে কংগ্রেসের দায়িত্ব সঁপে দেওয়ার পর বিদায়ী সভাপতি সোনিয়া গান্ধী মন্তব্য করলেন,‘নিজেকে মুক্ত লাগছে।’

তারপর সোনিয়া বলেন, শতাব্দীপ্রাচীন দলে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে কাজ শুরু করেছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তারপর ধাপে-ধাপে উত্থান হয়েছে। এবার কংগ্রেসের সর্বোচ্চ পদে বসেছেন খাড়গে। নিজেদের বিবেক দিয়ে কংগ্রেসের সদস্যরা তাকে নয়া সভাপতি হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

কংগ্রেসের বিদায়ী সভাপতি বলেন, ‘আজ নিজেকে মুক্ত মনে হচ্ছে। কেন সেটা বললাম, তা আমি স্পষ্ট করে বলছি। আমি যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মনে রাখব। কিন্তু এই সম্মানের বিষয়টা অত্যন্ত বড় দায়িত্বের। আমার যা ক্ষমতা ছিল, সেটা দিয়েই দায়িত্ব পালন করেছি। আজ আমার দায়িত্ব ছেড়ে দেব। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি মুক্তবোধ করছি।’

১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একটানা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন সোনিয়া। তারপর কংগ্রেসের শীর্ষপদে বসেছিলেন ছেলে রাহুল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির দায় নিয়ে কংগ্রেসের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে ‘সাবস্টিটিউট’ হিসেবে কংগ্রেসের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর অবশেষে চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন সভাপতি নির্বাচন হয়। শশী থারুরকে হারিয়ে নতুন সভাপতি হয়েছেন খাড়গে।

প্রায় আড়াই দশক পরে গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও ব্যক্তি কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, খাড়গে যে সোনিয়া ঘনিষ্ঠ, তা কারও অজানা নয়। তাই আদৌও খাড়গে গান্ধী পরিবারের ছায়া থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেন কিনা, সেদিকে নজর থাকবে।

সোনিয়া বলেন, ‘নব-নির্বাচিত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। পরিবর্তনই হল পৃথিবীর নিয়ম। অতীতেও অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে কংগ্রেস। আমি নিশ্চিত যে এবারও আমরা যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।’

দায়িত্ব পাওয়ার পর মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ভারতীয় সংবিধানের সঙ্গে কংগ্রেসের মতাদর্শের মিল আছে। ১৩৭ বছরের বেশি সময় ধরে নাগরিকদের অংশ হয়ে উঠেছিল কংগ্রেস। কিন্ত নেতারা জীবন উৎসর্গ করার পরও বর্তমানে ভোটাররা এখন কংগ্রেসকে নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

বিজেপিকেও আক্রমণ শানান খাড়গে। অভিযোগ করেন, ভারতে যে ধরণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল কংগ্রেস, তা পালটে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কে ভেবেছিলেন যে দেশে এমন একটি রাজনৈতিক যুগ চলবে, যেখানে মিথ্যাচারের বাড়বাড়ন্ত থাকবে এবং যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা গণতন্ত্রকে দুর্বল করার প্রক্রিয়ায় সামিল থাকবেন?’

বিজেপির ‘বিরোধী-মুক্ত ভারত’ নীতিরও সমালোচনা করেন খাড়গে। তিনি বলেন, ‘কোন ধরণের নতুন ভারতের কথা বলছে বিজেপি? যেখানে বেকারত্ব লাগামছাড়া থাকবে, গাড়ির তলায় চাষিদের পিষে মারা হবে, নারীদের ওপর অত্যাচার চালানোর ঘটনা বাড়বে ও অপরাধীদের সম্মান প্রদান করা হবে, মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কায় আমজনতার নাভিঃশ্বাস উঠবে?’ সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওদের (বিজেপি) নতুন ভারতের চিন্তাভারায় দলিত, আদিবাসী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে অপমান করা হচ্ছে এবং তাদের থেকে সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত