অফিস কিংবা কর্মক্ষেত্রে যারা সিনিয়র এবং দায়িত্বশীল, স্বাভাবিকভাবেই তাদের কিছু ক্ষমতা যেটাকে অফিসের পরিভাষায় ‘ডেলিগেশন অব পাওয়ার’ বলা হয় তা তারা প্রয়োগ করেন কিংবা করতে হয়। এটা দায়িত্বেরই অংশবিশেষ। কিন্তু সমস্যা হয়, এটা প্রয়োগ করতে গিয়ে নিজেকে বেশ সুপিরিয়র ভাবা। অধস্তনদের বিষয়ে তখন একটা তাচ্ছিল্যের ভাব আসে, এরা কী বুঝে, কী করে; যা করি তো আমিই করি এমন একটা হামবড়া ভাব প্রদর্শন করার বাতিকে পেয়ে বসে। শুরু হয় হুমকি-ধমকি, মেমো দেব, ট্রান্সফার করে দেব আরও সব নানান কথাবার্তা, ভাবভঙ্গিমা।
অভিজ্ঞদের মতে, এর দ্বারা কাজ কম হয় বরং নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বেশি। তারা মুখে কিছু না বললেও মনে মনে অনেক কিছু বলে। কাজ করে রোবোটিক ভাবে, স্বতঃস্ফূর্ততা থাকে না। এর ফলে আউটপুট কমে যায়। বরং কোমলতা ও বিনয়, স্নেহ ও ভালোবাসা সহকর্মীদের উদ্দীপ্ত করে, কাজের মান ও গতি বাড়ায়।
সফল মানুষের জীবনালেখ্য থেকে জানা যায়, তারা কর্মজীবনে যতটুকু সফলতা পেয়েছেন, তা সহকর্মীদের ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও শ্রমের কারণেই।
ঘরে-বাইরে বিনয়ী ও কোমল হওয়ার বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিটি অসম্ভব সুন্দর বরং কালজয়ী বলা যায়। এর অনুশীলনে জীবনটাই পাল্টে যেতে পারে। ইসলামি স্কলারদের মতে-
বান্দার মধ্যে অন্যতম বাঞ্ছিত গুণের নাম হচ্ছে কোমলতা।
এটি সামাজিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে এবং দ্বীনের দাঈকে গ্রহণযোগ্যতা এনে দেয়।
ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল। তিনি সব কাজে কোমলতা পছন্দ করেন।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতাকে ভালোবাসেন। এ জন্য যে বিনিময় তিনি দেবেন, তা নিষ্ঠুরতা বা অন্যকিছুর জন্য দেবেন না।’ -সহিহ মুসলিম
কোমলতা কাজকে সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী করে দেয়। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোমলতা যে জিনিসেই থাকবে, তা জিনিসটা সুন্দর করে দেয়, আর যে জিনিস থেকে কোমলতা বিচ্ছিন্ন করা হয় তা
জিনিসকে কদর্য করে দেয়।’ -সহিহ মুসলিম
কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয়ের হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।’ -সুরা আলে
ইমরান : ১৫৯
কোরআন মাজিদে আরও বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বলো, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।’ -সুরা ত্বহা : ৪৪
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কোমলতা থেকে বঞ্চিত, সে কল্যাণ থেকেও বঞ্চিত।’ -সহিহ মুসলিম
হাদিসে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে আয়শা! কোমল হও, যখন আল্লাহ কোনো ঘরের অধিবাসীদের ভালো চান, তখন তাদের কোমলতার পথ দেখিয়ে দেন।’ -আহমদ
হাদিসে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি কি তোমাদের বলব না, কার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম? প্রত্যেক কোমলচিত্ত, দয়ালু ও নরম মানুষের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম।’ -সুনানে তিরমিজি
আসুন এই গুণের অনুশীলন করি পরিবারে, সমাজে, অফিসে এবং সর্বত্র। আল্লাহতায়ালা আমাদের সহায় হোন।
