ইচ্ছেমতো চরিত্র চাইলেই কি আর পাওয়া যায়? বাধা হয়ে দাঁড়ায় গায়ের রং। ৩৮ বছরের অভিনেত্রী কলকি কোচলিন ফরাসি বংশোদ্ভূত হলেও, তিনি ভারতের নাগরিক। পুদুচেরিতে জন্মেছিলেন। কিন্তু জিনগত কারণে তার গায়ের রঙে ইউরোপীয় আভা। তা নিয়ে হিন্দি ছবিতে কাজ করতে এসে বরাবরই একঘেয়ে চরিত্র পেয়েছেন বলে আক্ষেপ অভিনেত্রীর।
গায়ের রঙে প্রতিফলিত হয় বিত্ত, এখনো এমনই ধারণা দেশের আনাচেকানাচে। কলকিও সব সময়ে বড়লোকের মেয়ে হিসাবেই ধরা দেন বলিউডে। সাধারণ কোনো চরিত্র করার সুযোগই পাননি। কলকি বলেন, একবার এক পরিচালক আমায় বলেছিলেন, 'আমার মনে হয় এ চরিত্রে তুমি ভালোমতো মানাবে, কারণ মানসিক ভারসাম্যহীনের চরিত্রে অভিনয় করতে হবে।' সত্যিই হতাশ লাগে আমার।
অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন একগুচ্ছ নিরীক্ষামূলক ছবিতে তাক লাগিয়েছিলেন কলকি। তার মধ্যে 'দেব ডি' (২০০৯), 'দ্য গার্ল ইন ইয়েলো বুটস' (২০১০) দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। তার পর 'ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি' (২০১৩), 'মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র' (২০১৪)-এর মতো ছবিতেও নজর কাড়েন কলকি। তবে চরিত্রের দিক থেকে সবেতেই তিনি যেন ব্রাত্য হয়েই থেকেছেন এ দেশে, আক্ষেপ অভিনেত্রীর। তার দাবি, 'গায়ের রং দিয়েই সব কিছু বিচার হয় ইন্ডাস্ট্রিতে। আমি দেখেছি, শ্যামলা মেয়েদের বেশির ভাগ সময় পরিচারিকার চরিত্রে দেওয়া হয়। কিন্তু কেন!' শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ খোঁজেন তিনি।
তবে পরবর্তী ছবি 'গোল্ডফিশ'-এ কাজ করতে পেরে রোমাঞ্চিত কলকি। সেখানে স্মৃতির রোগ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দীপ্তি নাভালের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ধরনের চরিত্র নিরীক্ষার সুযোগ দেয়, এমনই মনে করেন কলকি। যদিও ঝুঁকি ছিল। ছবির প্রস্তাব যখন এসেছিল, কোনো প্রযোজক পাওয়া যাচ্ছিল না 'গোল্ডফিশ'-এর। শুরু থেকে অনিশ্চিত একটি প্রকল্প নিয়ে কার না ভয় হয়? তবে আশা রাখেন কলকি। বললেন, 'লড়াইটা বুঝে করতে হবে। পরিচালক অচেনা হলে হয়তো রাজি হতাম না। কিন্তু পূষণ কৃপালনির প্রথম কাজ দেখেছি। আমি জানতাম, ঠিক জায়গায় এসেছি। চরিত্রের গভীরে ডুব দেওয়ার সুযোগ আমি ছাড়তে চাইনি।' সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
