টুইটার কিনেই শীর্ষ ৩ কর্মকর্তার চাকরি খেলেন মাস্ক

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২২, ০২:১৪ পিএম

শেষমেশ টুইটার কিনেই নিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। বৃহস্পতিবার মাইক্রো ব্লগিং সাইটটির মালিকানা গ্রহণের পরপরই সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটলেন মাস্ক।

টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পরাগ আগারওয়ালসহ শীর্ষস্থানীয় ৩ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছেন তিনি। এসব কর্মকর্তা তাকে বিভ্রান্ত করেছেন বলে অভিযোগ মাস্কের।

মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতার পরপরই মাস্ক টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পরাগ আগারওয়াল, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেড সেগাল এবং আইন ও নীতিবিষয়ক প্রধান বিজয়া গাড্ডেকে চাকরিচ্যুত করেন।

মাস্কের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে থাকা ভুয়া অ্যাকাউন্টের (ব্যবহারকারী) বিষয়ে তাকে এবং টুইটারের বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছেন এসব কর্মকর্তা।

ওদিকে, তার এই ছাটাইয়ের ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় আছেন টুইটারের প্রায় সাড়ে সাত হাজার কর্মী।

মাস্ক জানিয়েছেন, তিনি টুইটারকে নতুন করে সাজাতে চান। তিনি বলেন, টুইটারে ‘স্প্যাম বট’ পরাভূত করতে চান তিনি। কীভাবে ব্যবহারকারীদের কাছে প্রকাশ্যে পর্যাপ্ত কনটেন্ট তুলে ধরা যায়, সেভাবে অ্যালগরিদম সাজাবেন তিনি।

টুইটারের নতুন মালিক আরও বলেন, প্ল্যাটফর্মটির ঘৃণা ও বিভাজনের আখড়ায় পরিণত হওয়া ঠেকাতে চান তিনি। যদিও একই সময়ে তিনি সেন্সরশিপ সীমিত করছেন।

অবশ্য এসব লক্ষ্য কীভাবে অর্জন করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মাস্ক। কোম্পানিটি কে পরিচালনা করবে, সেটা নিয়েও কিছু বলেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইলন মাস্ক এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি টুইটার মালিকানা গ্রহণ করছেন। ‘মানবতার স্বার্থেই’ তার এই পদক্ষেপ বলে বার্তা দেন মাস্ক। এ নিয়ে টুইটারে মাস্ক লিখেছেন, কেন আমি টুইটার কিনলাম সে ব্যাপারে সকলকে জানাতে চাই। আরও অর্থ উপার্জনের জন্য কিনিনি। মানবতার জন্য কিনেছি। মানবতার ভবিষ্যৎ এমন হওয়া উচিত যেখানে সমস্ত পক্ষের স্বাধীন মতামত প্রকাশের একটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থাকবে। সুস্থ পরিবেশে বিতর্ক হবে। পাশাপাশি মাস্ক এও বলেছেন, বর্তমানে বিপজ্জনক পরিস্থিতি রয়েছে, যেখানে সমাজমাধ্যম কট্টর দক্ষিণপন্থী ও কট্টর বামপন্থীদের কয়েকটি গোষ্ঠীতে ভাগ হতে চলেছে। যা সমাজে ঘৃণা ও বিভাজন বাড়াবে।

পাশাপাশি টুইটারে বিজ্ঞাপন নীতি কী হওয়া উচিত, সে নিয়েও বার্তা দিয়েছেন মাস্ক। তার কথায়, বিজ্ঞাপন সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে, তা মানুষকে অনেক তথ্য পেতে সাহায্য করবে। অপ্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন ‘স্প্যাম’ বলে বর্ণনা করেছেন ধনকুবের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত