পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার সরকারের জন্য সামরিক বাহিনীর কাছে অবৈধ ও অসাংবিধানিক সুবিধা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুম। অবশ্য ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা আসাদ উমর এ ধরনের অবৈধ সমর্থনের অনুরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চলতি বছর এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইমরান দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে আসছেন। তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিরোধীদের বসাতে সামরিক বাহিনী ছক কষেছিল বলেও অভিযোগ তার। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রধানের সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়ছিল। এরই প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক বাহিনীর ভেতরেও প্রভাবশালী ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধান নাদিম আনজুম সংবাদ সম্মেলনে আসেন। নজিরবিহীন ও বিরল ওই সংবাদ সম্মেলনে আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুম বলেন, সেনাবাহিনী ও এর প্রধান অবৈধ, অসাংবিধানিক কাজ করতে রাজি না হওয়ায় এমন অভিযোগ তুলেছেন ইমরান। কিন্তু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর রাজনীতির বাইরে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাই সরকারকে সমর্থন দিতে ইমরান খানের ক্রমাগত অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে সেনাবাহিনী।
আইএসআইপ্রধান সাধারণত জনসম্মুখে আসেন না। সংবাদ সম্মেলনে এসে অবশ্য তিনি বলেননি ইমরান কোথায় এমন অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতার সাড়ে সাত দশকের মধ্যে তিন দশকের বেশি সময় দেশটির সরাসরি শাসনক্ষমতায় ছিল সেনাবাহিনী। বেসামরিক ব্যক্তিরা ক্ষমতায় থাকলেও পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০১৮ সালে প্রথমবার ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল।
