চিরচেনাদের বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখছে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৩৯ পিএম

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বৈরথ ১৯৯৭ থেকে ২০২২। ২৫ বছর ধরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ৮১ ম্যাচের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। সবচেয়ে বেশি ১৯ টি-টোয়েন্টিতেও। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের প্রথম দেখার পর এখন পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয়েছে ছয়টি। ২০১৯-এ হওয়া সর্বশেষ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে খেলেনি। গত টি-২০ বিশ্বকাপেও ছিল না দলটি। এবারই প্রথম কোনো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখা না হলেও এখন পর্যন্ত দুই দল ১৯ বার এই সংস্করণে একে অন্যকে মোকাবেলা করেছে। তাতে জয়ের পাল্লাটা ভারি বাংলাদেশের দিকেই। সাকিবদের ১২ জয়ের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের জয়ের সংখ্যা ৭। তবে সাম্প্রতিককালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজে হেরেছে টাইগাররা। আগস্টে তিন ম্যাচের সিরিজে সিকান্দার রাজার জয় পেয়েছে ২-১ ব্যবধানে। একইসঙ্গে তারা বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে হারিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

এদিকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারলেও তারা বুঁদ হয়ে আছে ডাচদের বিপক্ষে জয়ের রোমাঞ্চে। টাইগারদের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম বলেন, ‘১৫ বছর পর সুপার টুয়েলভে (আসলে প্রথম) প্রথম কোনো ম্যাচ জিতেছি। আমার মতে, এটি খুব ভালো। সত্যিই দুর্দান্ত। ছেলেদের অবশ্যই এটি প্রাপ্য। তারা যেভাবে চেষ্টা করেছে, পরিশ্রম করেছে। এ কৃতিত্ব পুরো দলের।’

দূরের কিছু না ভেবে শুধু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচই তার চিন্তায়, ‘আমি আগেও বলেছি। আমরা একবারে একটি ম্যাচের কথা চিন্তা করছি। খুব বেশি দূরের কথা ভাবছি না। আমাদের পরের চ্যালেঞ্জ জিম্বাবুয়ে। আমরা একটি একটি ম্যাচ ধরেই এগোব। পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকাতে পারব না, বেশি দূরের কথা ভাবা যাবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যা হয়ে গেছে তা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার মতে, এখন পুরোপুরি শান্ত থাকার সময়। নিজেদের পরিকল্পনায় পরিষ্কার থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট দিনে সেটি বাস্তবায়নে মন দিতে হবে। ম্যাচের ছোট ছোট ধাপের কথা চিন্তা করতে হবে। যদি আমরা ছোট ছোট ধাপগুলো জিততে পারি, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ভালো একটি ম্যাচ খেলতে পারব।’

অন্যদিকে পাকিস্তানকে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের চোখ আরও ওপরে। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলে তাদের আত্মবিশ্বাসের পালেও হাওয়া লাগার কথা। ঘরের মাঠে টাইগারদেরকে তারা হারিয়েছে সিরিজে। তবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েই জিততে চায় তারা। ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন বলেন, ‘দেখুন, আমার মনে হয় প্রতি ম্যাচেই আমাদের দারুণ সুযোগ রয়েছে। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে কয়েকজন ক্রিকেটার ওইদিন নিজেদের মেলে ধরলেই যে কোনো দলকে হারানো সম্ভব। আমরা জানি, বাংলাদেশ মানসম্পন্ন দল। তাদের বিপক্ষে আগামীকাল আমাদের সেরা খেলাটাই খেলব।’

টি-টোয়েন্টি সংস্করণই এমন, পলকে বদলে যেতে পারে ম্যাচের মোড়; ভালো করেই জানেন আরভিন। পাকিস্তানকে হারানোর আত্মবিশ্বাস সঙ্গী, ‘ছেলেরা অনেক খুশি এবং সফল হতে আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তবে আমরা জানি, এই খেলাটি কত দ্রুত রূপ বদলায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত