ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বসতবাড়ির আশপাশে ও ফসলের মাঠে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থাপন করা হয়েছে ইটভাটা। আশপাশের ফসলি জমির মাটি আর গাছপালা কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে উপজেলার অন্তত ১৬টি ইটভাটায়। এরফলে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে তেমনি ভাটার কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে আম ও লিচুগাছের মুকুলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে। অথচ লাইসেন্স ছাড়াই ভাটাগুলো চলছে বছরের পর বছর। মালিকরাই বলছেন, ভাটাপ্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে উৎকোচ দিয়েই কাজ শুরু করেন তারা।
পীরগঞ্জ পৌর শহর ঘেঁষে চাপোড় এলাকায় পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ পাকা সড়কের দু’পাশে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের মাঝখানে ৪টি, ভেলাতৈড় ও গনিরহাটে জনবসতি এলাকায় ৩টি, কেউটগাঁওয়ে ঘনবসতি সংলগ্ন ফসলের মাঠে একটি, গোদাগাড়ি-সিন্দুর্না এলাকায় ফসলি জমিতে ৪টি, কালিয়াগঞ্জে আবাদি জমিতে একটি, মল্লিকপুরে ১টি এবং বৈরচুনায় পাকা সড়কের দু’ধারে ২টি ইটভাটায় প্রতি মৌসুমে আগুন জ্বলে। প্রতি বছরের মতো এবারও ভাটাগুলোয় ইট তৈরির প্রস্তুতি চলছে। পোড়ানোর জন্য স্তূপ করা হয়েছে শত শত টন কাঠ। গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা জ্বালানির উপযোগী করার জন্য চাপোড় এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে একটি করাত কল। যেখানে রাতদিন শুধু ভাটার খড়ি সাইজ করা হয়। সেখান থেকে সাইজ করা খড়ি ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকায় স্তূপ করছেন ভাটা মালিকরা।
জসাইপাড়া গ্রামের তারেক হোসেন জানান, পীরগঞ্জে তিন ফসলি আবাদির জমির মাঝখানে ইটভাটা করা হয়েছে। ভাটার আশপাশের আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে ইট বানানো হচ্ছে। মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া জমিতে কমপক্ষে ৭/৮ বছর ভালো ফসল হচ্ছে না।
ভেলাতৈড় গ্রামের মনিরুজ্জামান জানান, ইট পোড়ানোর মৌসুমে এলাকায় শ্বাসকষ্টের বোগী বেড়ে যায়। ভাটা বন্ধে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কাজ হচ্ছে না।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে না এবং ইট তৈরির ক্ষেত্রে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারও নিষিদ্ধ। এসব আইন ভঙ্গে আছে সাজার বিধানও। তবে উপজেলায় এই আইনের তোয়াক্কা করছেন না কেউই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটা মালিক জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, শুল্ক বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই তারা ইটভাটা চালান। এর জন্য বছরে তাদের ভাটাপ্রতি আড়াই লাখ টাকা করে বাড়তি খরচ করতে হয়।
উপজেলা ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য ইট দরকার। এজন্য তুলনামূলক কম আবাদ হয় এমন জমিতে ভাটা করা হয়েছে। আর সব ভাটায় কাঠও পোড়ানো হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার নজির বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
