হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট-প্রশাসন সবই এখন গণভবনে: রিজভী

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৪৭ পিএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে মানুষের ঢল দেখে সরকার রীতিমত নিদ্রাহীন ও অস্থির হয়ে উঠেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পারিষদবর্গ বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তারই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় ছাত্রদলের মশাল মিছিলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে ছাত্রদল নেতা ইমন হাসান অনিককে হত্যা করেছে।’

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় ছাত্রদলের মশাল মিছিলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করলে হামলা থেকে বাঁচতে গাড়িচাপায় মারা যায় রুপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইমন হাসান অনিক। এটি যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্তৃক সরাসরি হত্যাকাণ্ড। আহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা আবু হানিফ, আপু মিয়া, আমির হোসেনসহ অনেকে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘নিশিরাতের জবরদস্তির সরকার বুঝে গেছে এবার তাদের আর রেহাই মিলবে না। গুম, খুন, মামলা-হামলা, লুটপাট, টাকা পাচার আর মহাদুর্নীতির কালযাত্রা যবনিকাপাত ঘটতে চলেছে। পতন তাদের অনিবার্য। পতনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। জীবনধারণের সব অবলম্বন হারিয়ে সারাদেশের সর্বহারা মানুষ চাল, ডাল, চিড়া, মুড়ি, হাঁড়ি পাতিল, কাপড়, পোটলা নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটানোর দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে তারা পথে নেমেছে, এগিয়ে আসছে বিএনপির সমাবেশস্থলের দিকে। বন্দুকের নল, কোনো রক্তচক্ষুর বাধা বিপত্তি তাদেরকে প্রতিহত করতে পারবে না। ক্ষোভের লেলিহান আগুন জ্বলছে প্রতিটি মানুষের চোখে মুখে, অন্তরের গহীনে।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির মুক্তির গণসমাবেশে মানুষ আসছে বন্যার স্রোতের মতো। গাড়ি আটকে দিলে আসছে নৌপথে। নৌপথে বাধা দিলে হেঁটে রওনা দিচ্ছেন। সাঁতরে পার হচ্ছেন নদী। রাস্তা বন্ধ করে দিলে বিল-মাঠ পেরিয়ে আসছেন। হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিলে না খেয়ে থাকছে। সারারাত সমাবেশের মাঠ দখল করে ফ্যাসিবাদীদের থেকে নিজেদের আদায়কৃত জায়গা রক্ষা করছে। তাদের স্লোগান শুধু স্লোগান নয়, যেন ১৮ কোটি মানুষের দীর্ঘশ্বাস। এরকম বাংলাদেশ কখনও দেখেনি কেউ। ঊর্মিমুখর জনস্রোত থেকে উত্থিত ক্ষোভ-দ্রোহের অগ্নি নিঃশ্বাস শেখ হাসিনাকে দগ্ধ করতে শুরু করেছে। আর তাই গত বৃহস্পতিবার জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুংকার দিয়ে বলেছেন, ‘বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে আবারও খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে দেব।’ তার কথায় আবারও স্পস্ট হলো দেশে আইন আদালত হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট-প্রশাসন সবই এখন গণভবনে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজসহ নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে হানা দিচ্ছে পুলিশ। নেতাকর্মীদেরকে বাসায় না পেয়ে পরিবারের লোকজনদের সাথে অশালীন আচরণ করছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি নেতা মীর শরাফত আলী সপু, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবন প্রমুখ।

অনিক হত্যার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে মিছিল

সংবাদ সম্মেলনের পরে নারায়ণগঞ্জের ভুলতার ছাত্রদল নেতা অনিককে হত্যার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কাকরাইল নাইটএঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন রিজভী। তার সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত