ড্যাডিসমগ্র পাঠ প্রতিক্রিয়ায় আলোচকরা

'ছবিকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম করেছেন ড্যাডি'

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৪ পিএম

গোলাম কাসেম ড্যাডি প্রথম সার্থক মুসলিম ছোটগল্পকার ও আলোকচিত্রশিল্পী বলে মন্তব্য করেন ড্যাডিসমগ্র পাঠ প্রতিক্রিয়ায় বক্তারা। তারা বলেন, আলোকচিত্রী হিসেবে ড্যাডি যেমন সফল, তেমনি ছোটগল্পকার হিসেবেও তার অবদান রয়েছে। তবে ড্যাডি সমকালীন লেখকদের মাধ্যমেও বঞ্চিত হয়েছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পাঠক সমাবেশের কাঁটাবনে আয়োজিত ড্যাডিসমগ্র পাঠ প্রতিক্রিয়ায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, বই বের না করার জন্য গল্পকার হিসেবে ড্যাডি প্রতিষ্ঠিত হননি। তবে তিনি বাংলার একজন গুরুত্বপূর্ণ গল্পকার ছিলেন। ১৯৬৪ সালে 'ক্যামেরা' ও ১৯৮৬ সালে 'একনজরে ফটোগ্রাফি' এই দুটি বই তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়। ড্যাডি তার বইগুলোর মধ্যে দু-তিন কালের আলোকচিত্রের বিষয় এবং মানুষ যেন সহজভাবে চর্চা করতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলার সংস্কৃতিতে ছবি ধারণকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম করেছেন তিনি।
 
দৃশ্যগল্পকার সুদীপ্ত সালাম বলেন, গোলাম কাসেম ড্যাডি আমাদের আলোকচিত্রীদের অভিভাবক। তার ছবিতে বিন্দুমাত্র প্রতারণার ছোঁয়া ছিল না। ড্যাডির জীবনাচরণ ও ছবিতে সেই সব সত্যতা ফুটে উঠেছে। এমন একজন সাদামাটা আলোকচিত্রী অভিভাবককে ভুলে গেলে আমরা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ব। 

কথাসাহিত্যিক মোজাফফর হোসেন বলেন, গোলাম কাসেম ড্যাডি শুধু একজন আলোকচিত্রী নন, তিনি শব্দচিত্রীও ছিলেন। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনধারণের ছবি তুলেছিলেন। মুসলিম ছোটগল্পকার হিসেবেও তার সার্থকতা রয়েছে। ড্যাডি বাংলার ইতিহাসের চাক্ষুষ সাক্ষী। শত বছরের জীবনে তিনি ৫০টির মতো ছোটগল্প লিখেছেন। এসব গল্পে বাংলার মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো উঠে এসেছে। তবে লেখকরা তাকে সেভাবে দেখেননি; বরং তিনি লেখকদের দ্বারা বঞ্চিত হয়েছেন।

ড্যাডির প্রবন্ধ নিয়ে আলোকচিত্রী ও শিক্ষক জান্নাতুল মাওয়া বলেন, প্রাবন্ধিক হিসেবে গোলাম কাসেম একজন সার্থক মানুষ ও শিক্ষক ছিলেন। ছবি তোলার জন্য উপকরণ বিষয়ে ৫০ বছর আগেই ড্যাডি তার প্রবন্ধের মাধ্যমে লিখে গেছেন। সেকালের একজন মানুষের লেখা বই পড়ে আধুনিক যুগে এসে আমরা ছবির বিষয়বস্তু শিখছি। তাই তো তিনি আলোকচিত্রীদের সফল শিক্ষক।

ড্যাডিসমগ্র পাঠ প্রতিক্রিয়ার আয়োজন করে পাঠক সমাবেশ। শেষে পাঠকদের মধ্য থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন গবেষক ইসরাইল খান, আলোকচিত্রী পল ডেভিড বারিকদার, কাউন্টার ফটোর অধ্যক্ষ সাইফুল হক অমি ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত