শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫০ পিএম

মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় ১৩ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা মো. স্বপনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৭ নভেম্বর) মধ্যরাতে শিশুটির নানি জয়মালা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরআগে, ওই দিন রাত ৮টার দিকে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকা থেকে স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার স্বপন শহরের উপকণ্ঠ নয়াগাঁও গ্রামের শেখ বাড়ির আব্দুর রহিমের ছেলে। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মো. তারিকুজ্জামান। 

তিনি জানান, সোমবার রাতে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ মহিলা সমিতির সভানেত্রী কমলা বেগমের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার শিশু সদর থানায় আসেন।এ সময় শিশুটির অভিযোগের ভিত্তিতে বাবা স্বপনকে আটক করে পুলিশ। থানা হেফাজতে আটক বাবাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মধ্যরাতে শিশুর নানি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। 

জানাগেছে, বনিবনা না হওয়ায় ৬ মাস আগে বাবাকে ছেড়ে যান মা। এরপর দাদার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় বাবাকে। অগত্যা বাবা ভাড়া বাসা নেন। সেখানে মায়ের আদর বাবার কাছেই পেতে চেয়েছিলো ১৩ বছরের শিশু কন্যা। কিন্তু বাবা দিনের পর ধর্ষণ করে আসছিলো তার শিশু কন্যাকে। এরমধ্য দিয়ে বাবার চেহারায় ফুটে উঠে পাষবিকতার আচরণ। 

হাটলক্ষ্মীগঞ্জ মহিলা সমিতির সভানেত্রী কমলা বেগম জানান, ২৫ দিন আগে আব্দুর রব বেপারীর বাড়িতে বাসা ভাড়া নেন স্বপন। তার সঙ্গে সেখানে বসবাস করে আসছিলো ১৩ বছরের শিশু কন্যা। এরআগে শহরের উপকণ্ঠ নয়াগাঁও গ্রামের দাদা আব্দুর রহিমের বাড়িতে থাকতেন বাবা ও মেয়ে। কিন্তু সংসারে বনিবনা না হওয়ার জের ধরে মেয়েটির মা তার বাবাকে ছেড়ে চলে যান। কিছুদিন পর দাদা বাড়ি থেকে মো. স্বপনকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর কিছু দিন অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। সেখানে থাকতে না পেরে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় মেয়েকে নিয়ে বাসা ভাড়া নেন স্বপন। 

তিনি আরও জানান, মেয়েটি তাকে জানিয়েছেন মায়ের অবর্তমানে বাবার কাছেই মায়ের আদর পেতে চেয়েছিলো। কিন্তু বাবা প্রতিরাতেই মেয়ের ওপর পাষবিকতা চালিয়ে আসছিলো। এবিষয়ে শিশুটি তার দাদা ও নানা বাড়িতেও জানায়। কিন্তু তাতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে মেয়েটি বাবার হাত থেকে রক্ষা পেতে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর মেয়েটি তার কাছে ছুটে আসে। পরে তিনি মেয়েটিকে নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় প্রথমে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত