গণতান্ত্রিক সরকার আগুন সন্ত্রাসীদের বিচার করবে: আমীর খসরু

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৫০ পিএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির জন্ম গণতন্ত্রকে মাথায় রেখে। জনগণকে সাথে নিয়ে তাদেরকে আস্থায় রেখে পথ চলছে। বিএনপি কেন আগুন নিয়ে খেলবে? বিএনপির সাথে তো মানুষ আছে। কিন্তু অতীতে কারা আগুন নিয়ে খেলেছে কিভাবে খেলেছে সবই আমরা জানি। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ও আইনের শাসন ফিরে আসলে আগুন সন্ত্রাসীদের বিচার হবে। যারা গুম, খুন ও ক্রসফায়ার বা পুলিশের হেফাজতে হত্যা করেছে তাদের বিচার হবে। যারা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছে ১০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে তাদের বিচার হবে। শেয়ার বাজার লুট করেছে তাদের বিচার হবে। কোনো ক্যাংগারু কোর্টে বিচার হবে না।

বুধবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জেডআরএফের অধ্যাপক ড. আবদুল করিম, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. আবুল কেনান, ডাঃ শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, অধ্যাপক একেএম মতিনুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোঃ নুরুল ইসলাম, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. সায়েম মনোয়ার, প্রকৌশলী কেএম আসাদুজ্জামান চুন্নু প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জেডআরএফের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, কৃষিবিদ ড. আবদুর রহমান নূরী, কৃষিবিদ সানোয়ার আলম, প্রকৌশলী মো. আইয়ুব হোসেন, ডা. জাহানারা লাইজু, প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান চৌধুরী, আসিফ হোসেন রচি, ডা. রাকিবুল ইসলাম আকাশ, ছাত্রদলের সোহরাব হোসেন সুজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব সংস্কার এবং উন্নয়ন করেছেন। এটাই জিয়াউর রহমানের বড় বৈশিষ্ট্য। তার সাথে কোনো রাজনীতিবিদের তুলনা হয় না। তার মতো সংস্কার দেশের কোনো শাসক করেনি। সব শাসক এখন করলেও তার সমান হবে না। তাকে জর্জ ওয়াশিংটনের মতো বলা চলে। জিয়াউর রহমান সম্মুখসমরে যুদ্ধ করেছেন। সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার সাথে তো আর কারো তুলনা হয় না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বাদ কিন্তু জিয়াউর রহমান দিয়েছেন। যে চিন্তা ও আকাংখা থেকে যুদ্ধ হয়েছিল তার স্বাদ কিন্তু ৭ নভেম্বরের উত্থানের পর জাতি পেয়েছে। এরপরই বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই দেশের উন্নয়নের সূচনা লাভ করে। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করেন। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তার মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল দেশের সবচেয়ে মেধাবীদের সমন্বয়ে। তিনিই দেশে মেধাবী রাজনীতি শুরু করেছিলেন।

আমীর খসরু বলেন, শেখ হাসিনার পরবর্তী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই মেধা ভিত্তিক রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতে হবে। এজন্যই বিএনপি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের কথা বলছে। যারা পেশীশক্তি দিয়ে রাজনীতি করতে পারে না। অর্থ নেই কিন্তু মেধা আছে তারা তো সমাজেরই অংশ। তাদেরকে নিয়েও আমরা আপার হাউজ এবং লোয়ার হাউজ সংসদ গঠন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির আগামী দিনের রাজনীতিতে মেধাবীদের সমন্বয় ঘটবে। এক্ষেত্রে পেশাজীবীদের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকে দেশ শেখ হাসিনা যেখানে নিয়ে গেছে সেখান থেকে বের হতে হলে নতুন নতুন চিন্তা করতে হবে।

আমীর খসরু বলেন, আমাদের গণজাগরণ শুরু হয়েছে। বাঁধ ভেঙেছে। জনগণের জোয়ার উঠেছে। জনগণ আমাদের গণসমাবেশে কিভাবে অংশগ্রহণ করছে সবাই জানেন। এতো পরিবর্তন অতীতে মানুষ কখনো দেখেনি। আমরা তো কাউকে কিছু দিচ্ছিনা। তবুও মানুষ দুই দিন তিন দিন ধরে রাস্তায় খেয়ে  না খেয়ে পড়ে থাকছে। কেউ খেতেও পারছেনা ভালোমতো। নারী পুরুষ সবাই আসছে। এচাই হলো দেশের প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসা। এখন আমাদের আন্দোলন বিপ্লবের পর্যায়ে চলে গেছে। আমরা সেই বিপ্লব নিয়ে সামনে এগোচ্ছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চায় আমাদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করতে চায়। কিন্তু আমরা সেদিকে গুরুত্ব দিইনা। শুধু নির্ভয়ে সামনে এগোচ্ছি। সবাই এগিয়ে যান। বিএনপি কোনো আগুন সন্ত্রাস করেনা। এটা হচ্ছে ষড়যন্ত্রমূলক কথা। আগুন নিয়ে নাটক হচ্ছে। অতীতে যেভাবে বিএনপির নামে কলংক লেপনের চেষ্টা করেছে। বিএনপি ভদ্র লোকের দল। তারা লগি বৈঠা চেনেনা। ক্রসফায়ার চেনেনা। মিথ্যা মামলা জানেনা। এসব জানে আওয়ামী লীগ। তারাই আগুন নিয়ে নাটক করছে।

ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ৭ নভেম্বর ছিল জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন জিয়াউর রহমানকে সিপাহী জনতার সম্মিলিত বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত করা হয়েছিলো। এরপরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা হয়। আধিপত্যের বিরুদ্ধে সেদিন মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিলো। জাতির ক্রান্তিকালে হাল ধরেছিলেন জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় জন্মদাতা জিয়াউর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত