আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ। ফিফা বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শক ও ভক্তদের স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত কাতার। দেশটির রাজধানী দোহাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস-সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও ম্যুরাল।
লেখাগুলো প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী বেশ প্রশংসিত হচ্ছে কাতার সরকারের এই উদ্যোগ। অনলাইনে সক্রিয়রা বলছেন, এটি বিশ্ব দরবারে ইসলামকে ফুটিয়ে তোলার দারুণ ও উদ্ভাবনী একটি পদ্ধতি। এজন্য তারা কাতারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগত দর্শকদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরে অভিনব কায়দায় অভ্যর্থনা জানাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। তাই বিভিন্ন স্থানে দেয়ালজুড়ে সাঁটানো হয় বর্ণিল ম্যুরাল, ব্যানার ও ফেস্টুন। এতে লেখা হয় আরবি ও ইংরেজি ভাষায় সামাজিক শিষ্টাচারবিষয়ক নবী করিম (সা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ অনেকগুলো বাণী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়া এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি দেয়ালে সাদা রঙের ওপর কালো বর্ণে দয়া-অনুকম্পা নিয়ে নবী করিম (সা.)-এর একটি বাণী লেখা। যার অর্থ, ‘যে অন্যের প্রতি দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না’। অন্য স্থানে সাঁটানো আরেক বাণীতে দেখা যায়, ‘সব ভালো কাজই দান।’
মানুষের সঙ্গে বিনম্র আচরণ ও বিদ্বেষ প্রশমনে নবী করিম (সা.)-এর আরেকটি বাণী দেখা যায়। বাণীটি হলো, ‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো, তাদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করো না।’
দ্বিমুখী মানুষের পরিণতি নিয়ে একটি হাদিস দেখা যায়। ওই হাদিসের অর্থ হলো, ‘তুমি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তি হিসেবে দ্বিমুখী মানুষকে পাবে। সে একদলের কাছে এক রূপ নিয়ে আসে এবং অন্যদের কাছে অন্য রূপ নিয়ে আসে।’
দান ও সুন্দর কথার গুরুত্ব নিয়ে বর্ণিত হাদিসও স্থান পেয়েছে ব্যানারে। এক ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘তোমরা খেজুরের টুকরো দান করে হলেও আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করো। যদি তা না পাও তাহলে সুন্দর কথা বলে নিজেকে রক্ষা করো।’
অন্য আরেক স্থানে সালাম দেওয়ার শিষ্টাচার নিয়ে নবী (সা.)-এর একটি হাদিস দেখা যায়। যার অর্থ, ‘ছোট বড়কে, পথিক বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং কমসংখ্যক ব্যক্তি বেশিসংখ্যক ব্যক্তিদের সালাম দেবে।’
আতিথেয়তা ও সামাজিক শিষ্টাচার নিয়ে নবী করিম (সা.)-এর আরেকটি প্রসিদ্ধ হাদিস দেখা যায় অভ্যর্থনায় ব্যবহৃত ফেস্টুনে। যার অর্থ, ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের ওপর বিশ্বাস করে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের ওপর বিশ্বাস করে সে যেন অতিথিকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের ওপর বিশ্বাস করে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’
আরেক স্থানে বৃক্ষ রোপণ নিয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস দেখা যায়। ওই হাদিসের অর্থ, ‘যদি কোনো মুসলিম গাছ রোপণ করে, অতঃপর কোনো মানুষ বা প্রাণী তা থেকে আহার করে, তা সেই ব্যক্তির জন্য দানস্বরূপ।’
