সাড়ে ৪ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকো

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২, ০১:১১ এএম

ঢাকার ধামরাইয়ে গাজীখালী নদীর ওপর নির্মিত সাড়ে ৪ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো দিয়ে। স্কুলের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজারো লোকের চলাচলের একমাত্র পথ হওয়ায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে উঠেই গন্তব্যে যাচ্ছে। সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাট না করার কারণে এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এমন দৃশ্য দেখা যায় উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও কেষ্টি এলাকায়। সেতুটি বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা এলজিইডি।

এলজিইডির কর্মকর্তা প্রকৌশলী আজিজুল হক জানিয়েছেন, সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাট করার জন্য ঠিকাদার সময় বাড়িয়েছেন। তবে কত দিন সময় বাড়িয়েছেন, তা তিনি সাংবাদিকদের বলতে রাজি হননি।

জানা গেছে, ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও কেষ্টি এলাকার গাজীখালী নদীর ওপর ৪৫ মিটার সিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। কাজটি শেষ করার কথা ছিল ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এ কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। মেসার্স জয়েন্ট ব্রিকস ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করে। বাস্তবায়নে ছিল উপজেলা এলজিইডি অফিস। তবে ২০২০ সালে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি। যার কারণে সেতুর দুই পাশ থেকেই লোকজনকে প্রায় ২৫ ফুট বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, সেতু নির্মাণের আগেই আমরা ভালো ছিলাম। কারণ তখন নদী পারাপারে ঝুঁকি ছিল না। এখন সেতুর কাজ শেষ করতে ঠিকাদার সময় লাগিয়ে দিয়েছেন চার বছর।

এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানান, উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে সেতুর কাজ এমন ধীরগতিতে চলছে। কবে নাগাদ শেষ হবে এর নির্মাণকাজ, তা কেউ জানে না। বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার কবলেও পড়েছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ফয়েজ আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সেতুর ঢালাইয়ের কাজ শেষ। অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজটি উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আমাদের দেয়নি। তাই অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণকাজ আমরা করতে পারিনি। আমাদের কাজটি দিলে দ্রুত করে দেব।’

তবে উপজেলা এলজিইডি অফিসের ভাষ্য, অ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ফেলাসহ কাজটি ৪ কোটি ২১ লাখ ২৭১ টাকার। ওই ঠিকাদারেরই কাজটি শেষ করার কথা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত