ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির পর আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের মেরামত কাজ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সংস্কার কাজে আপত্তির কথা জানিয়ে বিজিবিকে খবর পাঠায় বিএসএফ। এরপর সেখানে লাল নিশান টানিয়ে দেয় বিএসএফ।
এদিকে রাস্তা সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না বলেও যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশনের ভবন, প্রধান রাস্তা ও যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য টয়লেটের মেরামত কাজ করছিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার মেসার্স বিজনেস সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল। মেরামত কাজটি সীমান্তের প্রায় শূন্য রেখায় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে অনুমতি নিতে হয়। তবে রাস্তা ও টয়লেটটি অনেক আগে থেকেই ছিল এবং রাস্তা ও টয়লেট ভেঙে যাওয়ার গণপূর্ত বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। নতুন করে কোনো স্থায়ী স্থাপনা করা হচ্ছে না। গত ১১ তারিখ থেকে সংস্কার কাজ শুরু হয়। এর আগে ইমিগ্রেশনের নতুন ভবন নির্মাণের আপত্তি দেয় বিএসএফ। তাদের আপত্তির মুখে নকশা পরিবর্তন করা হয়। সেই ভবন নির্মাণকাজ এখনো নানা জটিলতায় শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন ইনচার্জ স্বপন চন্দ্র দাস জানান, জরাজীর্ণ ইমিগ্রেশন ভবন, রাস্তা ও টয়লেটের মেরামত কাজ করা হচ্ছিল। সকালে বিএসএফ বাধা দিয়েছে বলে বিজিবি এসে আমাদের বলে যায়, আমরা যেন কাজ বন্ধ রাখি। বর্তমানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বিজিবির কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মারুফুল আবেদীন জানান, সীমান্তে ১৫০ গজের ভেতর কোনো কাজ করতে গেলে দু’দেশের সীমান্ত বাহিনীর সমন্বয়ে করতে হয়। বিষয়টি আগে থেকে আমাদের জানায়নি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। যেহেতু দু’দেশের যাত্রীদের সুবিধার্থে এ মেরামত কাজ করা হচ্ছে, তাই ২-১ দিনের মধ্যে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করে আবার ইমিগ্রেশনের মেরামত শুরু করা হবে বলে আশা করছি।
