সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অভিনেতা মীর সাব্বিরকে নিয়ে ট্রল হতে দেখা গেছে। সেখানে অনেকেই দাবি মীর সাব্বিরের মজা টাকে পুঁজি করেন সেই উপস্থাপিকা। কিন্তু তার দাবি নারীর পোশাক এবং নারীকে সম্মান করা এই বিষয়ে মীর সাব্বির। এটি নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে নানা ধরনের কানাঘোষা।
গতকাল মীর সাব্বির সেই উপস্থাপিকাকে ছোট বোনের সঙ্গে তুলনা করে নিজের ওয়ালে একটি পোস্ট করতে দেখা যায়। তারপরও যেন এই ইস্যু থামছেই না। তাহলে এর শেষ কোথায়। তবে মিডিয়াঙ্গণের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা মীর সাব্বিরের পাশে। কেউ কেউ আবার এর দায় ছুড়ে দিচ্ছেন সেই উপস্থাপিকাকে। এদিকে উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় উপস্থাপিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ডাকলেন নিজের কাছে এবং প্রতিবাদ করলেন নিজের ফেসবুকে।
এই অভিনেতা, পরিচালক ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় লিখেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং কিছুটা দাবি খাঁটিয়ে অভিনেতা মীর সাব্বিরকে মঞ্চে কিছুটা মজা করার জন্য দাঁড় করালেন উপস্থাপিকা। বরিশালের ভাষায় মীর সাব্বির মজাও করলেন। তারপর সব শেষ। সবাই আনন্দ পেয়ে ঘরে গেল। উপস্থাপিকা বা কোন মাধ্যম এই অনুষ্ঠান থেকে একটি ভাইরাল টপিক বানানোর জন্য মীর সাব্বিরের মজা টাকে পুঁজি করল। সারাদিন মীর সাব্বিরকে নিয়ে ট্রল। উপস্থাপিকা মীর সাব্বিরের বিরুদ্ধে কিছুটা অশালীনভাবেই বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। আপনার যদি এতই আলোচনায় আসতে ইচ্ছে হয় আপনি আমার কাছে আসেন।’
তিনি আরও লিখেন, ‘এই বিষয়ে মীর সাব্বির আপনাকে অনেক দূর নিতে পারবে না। মাত্র দুই তিন দিন। আমার অনুষ্ঠান আপনাকে এক বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখবে। নারীর পোশাক এবং নারীকে সম্মান করা এই বিষয়ে মীর সাব্বির সহ আমাদের জেনারেশনের সকল অভিনেতাদের সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আছে। মীর সাব্বিরকে নিয়ে ট্রল করেন অসুবিধা নাই। ভুলেও তাকে অসম্মান করার চেষ্টা করেন না। ট্রল কাকে বলে কত প্রকার ও কী কী বিষয়টা আপনাকে বোঝাতে চাই না। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে মীর সাব্বির যখন বিবাহিত বলেছে তখন আপনার মন খুব খারাপ হয়েছে। তাই আপনি প্রতিশোধ নেবার জন্য মীর সাব্বির সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলছেন।’
সেই উপস্থাপিকাকে ছোট বোনের সঙ্গে তুলনা করে অভিনেতা মীর সাব্বির লিখেন, ‘এক দেশের গালি আরেক দেশের বুলি। গত ১১ ই নভেম্বর মিসেস ইউনিভার্সের এর একটি প্রতিযোগিতায় আমি অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি কথা নিয়ে প্রসঙ্গক্রমে উপস্থাপিকা দুই একটি কথা বলেছেন। মঞ্চে আমার সঙ্গে কথা বলার পর দেখলাম, ওই উপস্থাপিকা তার বরাত দিয়ে দুই একটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত করেছেন। এর কারণে অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোনও করেছেন। আসলে মূল বিষয়টা বলতে পারেন তেমন কিছুই না ।একটা ছোট্ট বিষয়কে হঠাৎ করে বড় করার চেষ্টা করা হয়েছে। উপস্থাপিকা মজার ছলে আমার বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা শুনতে চেয়েছেন। যেহেতু আমি বরিশালের ছেলে। আমি যে কথাটা বলেছিলাম, সেটা উপস্থাপিকা চমৎকার হেসে রিসিভ করেছেন এবং দর্শকরা তখন মজা পেয়েছেন। আমি যেটা বলেছি সেটা তাৎক্ষণিক এবং এর পেছনে কোন উদ্দেশ্য ছিল না। কাউকে হেয় করার জন্য কিছু বলি নাই। সেটা নিশ্চয়ই যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পেরেছেন।’
তিনি আরও লিখেন, ‘উপস্থাপিকা যে আমার ছোট বোনের মত। সে যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে...আমি দুঃখ প্রকাশ করতেই পারি। সেটা নিয়ে এভাবে ফেসবুক কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়ে ছড়ানোর কিছু নাই। আমাকে বললেই পারত "'দাদাভাই কিংবা ভাইয়া আপনাকে আমি রেসপেক্ট করি। আপনার কথায় আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি তখন হয়তো বলতাম সরি তুমি কষ্ট পেও না। আমি তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য কথাটা বলিনি । কারণ তুমি আমার শব্দের মানে বুঝতে পারোনি। বিষয়টা শেষ হয়ে যেত। আমি আমার ছোট বোনের ব্যাপারে ভুল বোঝার কারণে দুঃখ প্রকাশ করতেই পারি। অতএব মন খারাপ না করে আমি আশা করছি, সকলের মতো আমার এই ছোট বোনটিরও আমার সম্পর্কে ধারণা এবং আমার বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে (শব্দের মানে না বোঝার কারণে) যত অভিমান আছে সেটা ভুলে গিয়ে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হবে।’
