নেইমাররা কাতারে আসছেন আজ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:২৬ এএম

ওয়াশিংটন পোস্টে গতকাল প্রকাশিত হয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবল দ্বৈরথ নিয়ে বাংলাদেশিদের উন্মাদনার খবর। বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ দ্বিখ- দূর দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশের নামে। এ শেষ চার দশকের ট্রেন্ড। এর মধ্যেই পতাকা ওড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে পাড়া-মহল্লায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে একে অন্যকে খাটো করার, নিজেদের সেরা জাহিরের লড়াই। ওয়াশিংটন পোস্টের জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক চুক ক্লুপেপারের কথায় এটা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এ দুটি দেশের কারণেই বাংলাদেশের এতটা বিশ্বকাপমুখিতা।

দোহায় এসে খুব জানতে ইচ্ছে হলো, মেসি-নেইমারদের নিয়ে কাতারেও উন্মাদনার মাত্রাটা কি এমন আকাশছোঁয়া? বিশ্বকাপের শহর। নিশ্চয় পাগলামিটা ছাড়াবে বাংলাদেশকেও। তবে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় একটু মিইয়ে যেতে হলো। নাহ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে পাগলামিটা এখানে সীমা ছাড়ায়নি এখনো। প্রজন্মের তর্কাতীত সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি সঙ্গীদের নিয়ে এর মধ্যেই ঘাঁটি গেড়েছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেজ ক্যাম্পে। আর্জেন্টাইন জাদুকরের এটিই সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ বাদে সব জেতা মেসিকে মর্যাদার শিরোপা হাতে দেখার বাসনা নিয়ে কয়েক হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকও উপস্থিত বিশ্বকাপের শহরে। তারপরও কেমন যেন শূন্যতা। এর একটা কারণ হতে পারে, নভেম্বরেও কাতারের অসহনীয় তাপমাত্রা। তবে এটা মূল কারণ নয়। মূল কারণটা ব্রাজিল। বিশ্বকাপের সফল দলটিই যে এখনো আসেনি। ব্রাজিল আসবে আজ। মেসিরা আছেন। এবার নেইমাররা এলেই জমে যাবে মরুর বিশ্বকাপ।

এশিয়ায় বিশ্বকাপ ফিরেছে ঠিক দুই দশক বাদে। শেষবার ২০০২ সালের সহআয়োজক জাপান ও কোরিয়া। এরপর কাতার ছাড়া সেভাবে আর কেউ বিশ্বকাপ আয়োজনের সাহস দেখায়নি। কাতার শুধু সাহসই দেখায়নি, নানা কারিকুরিতে বিশ্বকাপ আদায়ও করে ছেড়েছে। তাতে বিশ্ব ফুটবলে টর্নেডো বয়ে গেছে, হয়েছে অনেক ওলটপালট। বাঁকা পথে বিশ্বকাপ কাতারকে উপহার দেওয়ার দায়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে ফিফার মোড়ল সেপ ব্লাটারকে। মিশেল প্লাতিনির মতো কিংবদন্তিকে হেনস্তা কম হতে হয়নি। বিশ্বকাপকে সার্থক করতে শ্রমিকদের যেনতেনভাবে কাজে লাগানো, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তারপরও কাতার তাদের অর্থের জোরে মরুতে ফুটবল ফুল ফোটানোর সব আয়োজন সেরে রেখেছে। এখন সেটা ফোটানোর দায়িত্ব ফুটবলারদের। খুব বেশি করে মেসি, নেইমারদের এবং অবশ্যই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের। ২০০২-এর এশিয়া বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। এশিয়ার ফেরার আসরে কি ভাগ্য ফেরাতে পারবে সেলেসাওরা? ২০ বছর আগে সে আসরেই অন্যতম ফেভারিট হয়ে এসেছিল আর্জেন্টিনা। অথচ তাদের মেনে নিতে হয়েছে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের পরিণতি। এবারও কি...?

অলুক্ষণে এ প্রসঙ্গটা এড়িয়েই যেতে চাইলেন আর্জেন্টাইন ভক্তরা। এর মধ্যেই বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার আর্জেন্টাইন উপস্থিত কাতারে। বিচ্ছিন্নভাবে আরও অনেকেই আসবে বলে সংবাদমাধ্যমের খবর। ঠিক একইভাবে কোরিয়া-জাপান জাগিয়ে তুলেছিলেন আলবিসেলেস্তের সমর্থকরা। এবার তাদের বিশ্বাস, মেসি তাদের এনে দেবে কাক্সিক্ষত শিরোপা। যেটি মেসির জন্মের অনেক আগে সেই ১৯৮৬ সালে এনে দিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বুয়েনস আয়ার্সের তরুণ আইনজীবী ফার্নান্দোর বিশ্বাস, মেসি এবার ম্যারাডোনা বড়, না মেসি বড় এ বিতর্কটা মুছে দেবেন ১৮ ডিসেম্বর শিরোপা জিতে। তবে মনেপ্রাণে আর্জেন্টিনার জয় চাইলেও তার মাথা বলছে অন্য কথা, ‘এটাই হতে পারে আমাদের আক্ষেপ ঘোচানোর সেরা সুযোগ। তবে এবার ফেভারিট নেহাত কম নয়। আমি তো চাই আর্জেন্টিনা জিতুক, তবে শক্তি বিচার করলে ব্রাজিলেরও ভালো সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেনকে সবসময়ই হিসেবে রাখতে হয়।’ আর্জেন্টিনার পাঁড় সমর্থকরা নিশ্চয়ই চাইবেন ফার্নান্দোকে ভুল প্রমাণিত হতে দেখা। তবে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখছেন আরও অনেকেই। ফ্ল্যাগ প্লাজা ফ্যান জোনে তিউনেশিয়ার একদল সমর্থককে দেশীয় সাজ-পোশাক পরে উৎসব করতে করতে বলতে শোনা গেল তাদের চোখে ফেভারিটের কথা, ‘ব্রাজিলই এবার চ্যাম্পিয়ন হবে। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন বলে বলছি না, ওরা এবার অনেক গোছানো।’

ব্রাজিলের এক সমর্থক আলভারেজ নিজ দলের সম্ভাবনা দেখছেন নেইমারে আস্থা রেখে। পিএসজি তারকা পাঁচ দিন আগে ইতালির তুরিনে বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের বেজ ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। আজ তার নেতৃত্বেই দোহায় পা রাখবে সেলেসাওরা। লক্ষ্য হেক্সা জয়। নেইমারও দিয়েছেন জীবন দিয়ে হলেও দেশকে শিরোপা জেতানোর প্রতিশ্রুতি, ‘বিশ্বকাপের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেব। বিশ্বকাপটা কী সেটা আমি জানি। এখানে আপনাকে দ্রুত শতভাগ তৈরি হতে হবে। সেটা না হলে সুযোগটা চলে যাবে। আমি চাই না এবারের সুযোগটা নষ্ট করতে।’

কথাটা কি ক্লাব সতীর্থ মেসিকে উদ্দেশ্য করেই বললেন নেইমার? দুজনের বন্ধুত্বের কথা সবার জানা। তাদের দুটি দেশের ফুটবল বৈরিতার কথাও অজানা নয়। আর হিসেব-টিসেব করে যা দেখা যাচ্ছে, এ দুই দলের দেখা হয়ে যেতে পারে সেমিফাইনালে। তার আগপর্যন্ত মেসির মতো নেইমারের ব্রাজিলেরও দায় কাতার ফুটবলকে চাঙ্গা করে রাখা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত