সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিজয়ের সোনাভান হয়ে ফিরেছে নিপুণ; পতন হয়েছে একটি স্বৈরাচারের: প্রযোজক খসরু

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২, ১২:০৬ পিএম

৩৮ বছরের ইতিহাসে লেখা থাকবে চিত্রনায়িকা নিপুণের নাম। ইতিহাসের স্বাক্ষী হলেন গতকাল সোমবার (২১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এর এমন আদেশে। সাধারণ সম্পাদক হলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে শুধুমাত্র পুরুষদের দেখা গেছে। 

এ নিয়ে এফডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এই খবরে আনন্দে ভাসছে শিল্পী সমিতি। সমিতির সামনে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সংবাদ সম্মেলন। সেখানে দেখা গেছে সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, সহসাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক মামনুন ইমন, আরমান, জেসমিন, মি এ তালেব ছাড়াও প্রযোজক সমিতির নেতা খোরশেদ আলম খসরুসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। 

নিপুণের জয়ে খোরশেদ আলম খসরু বলেন, 'সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে নিপুণ আক্তারের যে অভিযোগ ছিল। টাকা দিয়ে ভোট কেনাবেচা হয়েছে এবং ভোটে দুর্নীতি হয়েছে। পরে নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে বিচার দিলেও তার কোন সুরাহা হয়নি। পরে তা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। সেখানে উচ্চ আদালত নির্বাচন আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিপুণ আক্তারের আইনজীবী সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছিল, দুর্নীতি হয়েছিল এবং টাকার খেলা হয়েছিল। সেই সব কিছু প্রমাণ হওয়ার কারণে বিজ্ঞ আদালত আপিল ডিভিশনের রায় শিল্পী সমিতির রায়কে তারা সমর্থন করে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদকের পদে সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা জয় পেয়েছি। আমরা জাস্টিস পেয়েছি। সত্যের জয় হয়েছে। সর্ব পরি বলতে পারি এই চলচ্চিত্র থেকে একটি স্বৈরাচারীর পতন হয়েছে। অভিনন্দন নিপুণ আক্তারকে এবং এই চলচ্চিত্রের বিজয়িনী সোনাভান হয়ে ফিরে আসার জন্য।'  

তবে এ রায় চূড়ান্ত নয় বলে দাবি করেছেন জায়েদ খান। নিপুণের পক্ষে এই রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, 'নিপুণের রায়ের বিষয়টি যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে তাতে ভুল রয়েছে। আদালত কেবল নিপুণের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছেন। এটা কিন্তু চূড়ান্ত রায় না।'

জায়েদ খান জানান, 'এখন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে। শুনানিতে রায় তার পক্ষে আসবে কারণ তিনি ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী ছিলেন।'

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর নিপুণের আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। নিপুণের পক্ষে সময় আবেদন করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।

এর ফলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 

বিষয়টি সুরাহা করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশে নির্বাচনের আপিল বোর্ড সকল তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিপুণকে জয়ী ঘোষণা করে। এরপর তা নিয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জায়েদ খান। 

এর আগে ৮ মার্চ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে স্থিতাবস্থার আদেশের পরও সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসায় নিপুণ আক্তারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন জায়েদ খান।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করা হয়।

গত ৩ মার্চ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নিপুণ আক্তার।

এর আগে ২ মার্চ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এছাড়া গত ৭ ফেব্রুয়ারি জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচনি আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এছাড়া এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিঠির কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। চিত্রনায়ক জায়েদ খানের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত