ফুটবলার জর্জ উইয়াহকে কি মনে আছে? বর্ণিল ক্যারিয়ারে কত সব অর্জন তার। মোনাকো, পিএসজি, এসি মিলানের মতো ক্লাবে খেলেছেন। এখন পর্যন্ত আফ্রিকার একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের কীর্তিও তার। কাতার বিশ্বকাপে বাবা জর্জ উইয়াহর সেই না পারার দুঃখে প্রলেপ দিলেন ছেলে টিমোথি উইয়াহ। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে নামলেন। বলা যায় বাবাকে ছাড়িয়েও গেলেন। গড়লেন রেকর্ডও।
কাতার বিশ্বকাপে গতকাল ‘বি’ গ্রুপের খেলায় ওয়েলসের বিপক্ষে শুধু মাঠেই নামেননি টিমোথি। গোলও করলেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্টের ছেলে। কাতার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যা প্রথম গোল।
জর্জ উইয়াহ লাইবেরিয়ার হয়ে ৬১ ম্যাচ খেলেছেন। নামের পাশে গোল ২২টি। তবে আফ্রিকার দেশটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি আজ পর্যন্ত। জর্জেরও তাই বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। হতো না টিমোথিরও। যদি না জাতীয় দল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিতেন তিনি।
টিমোথির জন্ম ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। দেশটির বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। ২০১৭ সালে ভারতের মাটিতে বসেছিল অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আসর। সেই আসরে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেন। পরের বছর জাতীয় দলে অভিষেকও হয়ে যায়। গোল পান নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই, বলিভিয়ার বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার তালিকায় টিমোথির নাম বসে যায় পঞ্চম স্থানে।
গত চার বছরে জাতীয় দলে জায়গাটা বেশ পোক্ত করেছেন টিমোথি। কাতার বিশ্বকাপের জন্য গড়া স্কোয়াডে তাই ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে উপেক্ষা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ২৫ ম্যাচে ৩ গোল ছিল টিমোথির। এখন যেটা ২৬ ম্যাচে ৪।
ক্লাব ফুটবলে টিমোথি খেলছেন লিগ ওয়ানের দল লিলের হয়ে। এর আগে ২০১৯ সাল পর্যন্ত খেলেন পিএসজিতে। সব মিলিয়ে তিনবার লিগ ওয়ান শিরোপাও জিতেছেন। দুইবার পিএসজির হয়ে ও একবার লিলের হয়ে। মাঝে ৬ মাস সেল্টিকের হয়ে ধারেও খেলেছিলেন টিমোথি। সেই সময় তার দল স্কটিশ কাপের ফাইনালে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে ফ্রান্সেরও নাগরিকত্ব রয়েছে টিমোথির। জাতীয় দল হিসেবে চারটি ভিন্ন দল ফ্রান্স, জ্যামাইকা, লাইবেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল তার। তবে যেখানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, বেছে নিয়েছেন সেই যুক্তরাষ্ট্রকেই। ওয়েলসের বিপক্ষে টিমোথি দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ৩৬তম মিনিটেই। দ্বিতীয়ার্ধে গ্যারেথ বেলের পেনাল্টি থেকে করা গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ওয়েলস। ১-১ ড্র হয় ম্যাচ। এই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্টও আসলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় প্রাপ্তি। ওয়েলস যদিও ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে, এরপরও আসলে এই ম্যাচে ফেভারিট ছিল তারাই। কারণ ইউরোপের এলিট দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত খেলে তারা। তাদের খেলোয়াড়রাও খেলেন ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোতে। টিমোথির ঐতিহাসিক গোল যাদের পূর্ণ পয়েন্ট পেতে দেয়নি।
ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে একটা জায়গায় টিমোথির নাম বসে গেছে পেলের পরই। ওয়েলস ১৯৫৮ সালে নিজেদের সবশেষ বিশ্বকাপ খেলে। সেবার পেলে তাদের বিপক্ষে গোল করেছিলেন। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির পর বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করা প্রথম ফুটবলার টিমোথি। এই শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও হলো তার। ‘প্রেসিডেন্ট’ বাবা এমন ছেলেকে নিয়ে গর্ব তো করতেই পারেন!
