সর্বোচ্চ ৫ বিশ্বকাপ খেলা দিয়েগো গোডিনের হেড। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফেদে ভালভার্দের শট। দুটোই বারে লেগে ফিরে আসে। সঙ্গে উরুগুয়ের সেরা তারকা লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানির চোখ রাঙানি কিছুই হারাতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়াকে। উল্টো পজিশন, কাউন্টার অ্যাটাক ও শক্তিনির্ভর ফুটবল উপহার দিয়ে উরুগুয়ের কাছ থেকে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে কোরিয়ানরা। গোলশূন্য ড্র হওয়া আরেক ম্যাচে এইচ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার দরজাও অনেকটা খোলা আছে দুই দলের জন্য।
ম্যাচের শুরু থেকে কোরিয়ানদের আক্রমণ সামলেই কেটেছে উরুগুয়ের। প্রায় ১৫ মিনিট পর্যন্ত এশিয়ান বাঘদের মাঠ বা বল পজিশন ছিল ৭০ ভাগের ওপরে। ম্যাচের সময় গড়াতে এই অবস্থার বদল হয়। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে থাকে উরুগুয়ে। বল পজিশনে এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগটা তৈরি করে তারাই। ২২ মিনিটে প্রথম স্পষ্ট সুযোগ মিস করে লাতিন আমেরিকান দলটি। গিমেনেজ বাম উইং থেকে বল থ্রু করেন ডি বক্সে। পোস্টের সরাসরি ১০ গজ দূরে থাকা নুনেজ বলে পা ছোঁয়ালেই গোল। অথচ মিস করায় গোলহীন থাকতে হয় উরুগুয়েকে। ২৭ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিল তারা। এবারও ফরোয়ার্ডরা বল রিসিভ করতে দেরি করায় মিলে ব্যর্থতা। এ দুই সুযোগের পর পাল্টা জবাব দিয়ে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ৩৩ মিনিটে অসাধারণ এক দলীয় গেম প্লেতে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে কোরিয়া। অথচ পোস্টের ৮ গজ সামনে দাঁড়িয়েও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন মুন-হোয়ান কিম। সহজ সুযোগে বলে পা ছুঁইয়ে পোস্টের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন। প্রথমার্ধে শেষ আক্রমণটায় গোল পেয়েই গিয়েছিল উরুগুয়ে। এবার তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভাগ্য। ৪৪ মিনিটে দিয়েগো গোডিনের হেডিং কোরিয়ার বারে লেগে ফিরে আসে। তাই প্রথমার্ধে দুই দলই থাকে গোলহীন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ ধীর হয়ে যায়। একটু নি®প্রভ থাকা সুয়ারেজকে দ্বিতীয়ার্ধে তুলে নিয়ে কিছুটা ইনজুরড কাভানিকে নামান উরুগুয়ে কোচ। তাতে দলটির আক্রমণের ধার বাড়ে। ওদিকে কোরিয়ান লোকাল বয় লি ক্যাং ইনকে নামিয়ে তাদেরও আক্রমণ বাড়ান কোচ পাওলো বেন্তো। তাতে ম্যাচের শেষদিকে দুই দলই গোলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে গোলের সুযোগ বেশি পায় উরুগুয়ে। কাভানি-নুনেজ জুটি গোলের ভালো সুযোগ পোস্টের বাইরে মেরে নষ্ট করেন। এরপর ভালভার্দের এক শট অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। বিপরীতে কোরিয়ান তারকা সনও গোলের সুযোগ পোস্টের বাইরে মেরে নষ্ট করেন। ইনজুরি সময়েও সুযোগ মিস হয় দুই দলের।
দুই দলের গোল মিসের এমন মহড়ায় খেলায় আর হার-জিত হয়নি। তাতে দ্বিতীয়ার্ধের পথে এগিয়ে বা পিছিয়ে নেই উরুগুয়ে কোরিয়া। পর্তুগাল-ঘানা ম্যাচের ফলাফল তাদের পরের ম্যাচে প্রভাব রাখবে বেশ।
