সহকারী শিক্ষিকা স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বামী। ঘটনাটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী গ্রামের। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত স্কুলশিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী স্ত্রী পপি খানম (৩৬) কাদিরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তিনি একই জেলার মধুখালী উপজেলার মহিষাপুর গ্রামের আবুল কাশেম খানের মেয়ে। গ্রেপ্তার খন্দকার মাহাবুবুর রহমান (৪৩) একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং পপি খানমের স্বামী। মাহাবুবুর রহমানের বাড়ি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী গ্রামে। মাহাবুবুর-পপি দম্পতির তাহমিদ (৬) ও তায়হান (২) নামে দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্ত্রী পপি খানম একটি মামলা দায়ের করেন স্বামী খন্দকার মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ভোররাতে খন্দকার মাহাবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পপি খানম বলেন, আমাদের বিয়ে হয় ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। এ জন্য ২০১৯ সালে একবার মামলা করি। তখন জেলা শিক্ষা অফিসার স্যারের মধ্যস্থতায় ওই বছরই মামলা তুলে নিই। নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় ২০২২ সালের জুলাই মাসে পুনরায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা করি। পরে আদালত বিষয়টির তদন্তভার বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠালে তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমার স্বামীর নাছোড়বান্দা মনোভাবের কারণে ইউএনও স্যার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে দেন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
