ব্যক্তিগত টাকায় সাড়ে ৩ কিমি সড়ক সংস্কার

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:০৭ এএম

ঝিনাইদহের হামদহ-নারিকেলবাড়িয়া সড়কে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় এতে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। ১০ কিলোমিটার সড়কের তিন কিলোমিটার ছিল চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতেন সড়কে চলাচলকারীরা।

মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ দেখে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সড়কটির সাড়ে তিন কিলোমিটার নিজের টাকায় সংস্কার করেছেন। গত দুই দিন ধরে ভাঙাচোরা সড়কটির বিভিন্ন খানাখন্দ ইট-বালু ও সুরকি দিয়ে তার ওপর রোলার দিয়ে মসৃণ করেছেন। এতে কমেছে মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি। তবে সম্পূর্ণ সড়কটি সংস্কারের দাবি চলাচলকারী মানুষ ও স্থানীয়দের।

সড়কে চলাচলকারী আক্তার হোসেন বলেন, এই সড়কটুকু ভাঙা হওয়ার কারণে এতদিন অনেক কষ্ট হতো। ভ্যান প্রায়ই উল্টে যেত। চেয়ারম্যান রাস্তা ঠিক করে দিয়েছেন, এখন সমস্যা কমেছে। ভাঙা-গর্ত ভরাট করার কারণে ভ্যান চালানো যাচ্ছে।

মসলেম উদ্দীন নামের ইজিবাইক চালক বলেন, নারিকেলবাড়িয়া থেকে যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন ঝিনাইদহ শহরে আসি। বিশ^রোড থেকে বয়েড়াতলা বাজার পর্যন্ত রাস্তা ভাঙা হওয়ার কারণে সময় বেশি লাগত। ইজিবাইকের চাকা গর্তে পড়ে প্রায়ই নষ্ট হয়ে যেত। আমরা অনেক লোক ধরেছি কিন্তু রাস্তা ঠিক হয়নি। এখন চেয়ারম্যান নিজের টাকা দিয়ে কিছুটা হলেও সংস্কার করে দিলেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই সড়কটি পৌরসভার অধীনে। কিন্তু এ সড়ক দিয়ে আমার ইউনিয়নসহ আশপাশের আরও কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন চলাচল করেন। সড়ক ভাঙা হওয়ার কারণে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ হয়। এলজিইডির পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার করতে সময় লাগবে। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে তাদের সহযোগিতায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই কাজ করছি।

ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন বলেন, সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হবে। হামদহ-নারিকেলবাড়িয়া ১০ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জেলা শহরে যাতায়াত করেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেওয়ায় এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত