পাপী ব্যক্তি অন্যকে পাপ ছাড়ার ব্যাপারে নসিহত করতে পারবে নাইসলামি শরিয়তে এমন কোনো বিধান ও নির্দেশনা নেই। এই ব্যাপারে অনেকেই ভুল ধারণায় রয়েছে। এমন ভুল ধারণা জন্মের পেছনে কোরআনে কারিমের কয়েকটি আয়াত ও হাদিসের ভুল মর্ম বোঝা দায়ী।
যেমন এক হাদিসে এসেছে, কিছু লোককে জাহান্নামে নেওয়া হবে এই কারণে যে, তারা সৎকাজের আদেশ করত, কিন্তু নিজে সেই কাজ করত না। আবার পবিত্র কোরআনের এক জায়গায় এসেছে যে, তোমরা মানুষকে সৎকাজের আদেশ দিচ্ছো, অথচ কিতাব পাঠ করে নিজেদেরই ভুলে যাও!
এসব হাদিস ও আয়াতের মর্ম এটা নয় যে, তুমি যেহেতু সৎকাজ করছো না, সুতরাং সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া তোমার জন্য বৈধ নয়। বরং আয়াতের মর্ম হচ্ছে, তুমি সৎকাজের আদেশ দিচ্ছো, অথচ নিজে পালন করছো না। এটা তো নিজের সঙ্গে প্রতারণা। তোমার দায়িত্ব তো শুধু সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং নিজে সৎকাজ সম্পাদন করাও তোমার দায়িত্ব। অর্থাৎ দুটোই স্বতন্ত্র কর্তব্য। কেউ একটা পালন করলে, একটার দায় থেকে মুক্ত থাকবে। আর কেউ দুটো করলে দুটোর দায় থেকেই মুক্ত থাকবে। আর কেউ কোনোটাই না করলে দুটোর জন্যই দায়ী থাকবে এবং আলাদাভাবে পাকড়াও হবে।
মন্দকাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখার চেষ্টা করা একটি বিশেষ কর্তব্য। যে ব্যক্তি মন্দকাজ করে আর অপরকে ভালো কাজের উপদেশ দেয়। তার একটি কাজ ভালো আর অপরটি মন্দকাজ। আর যদি অপরকে নসিহত করা বর্জন করে, তবে দুটি কাজই হবে মন্দ। তাই বেআমল লোকও সত্যের নির্দেশ দিতে পারবে।
বেআমল উপদেশ দানকারীর প্রতি তিরস্কার রয়েছে ঠিক। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, সে অপরকে নসিহত বা উপদেশ প্রদান করতে পারবে না। বরং অপরকে নসিহতের পাশাপাশি নিজেও আমল করতে সচেষ্ট হবে। এটাই ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা। আমাদের পূর্ববর্তী বুজুর্গরা এসব হাদিস ও আয়াত থেকে এমনটাই বুঝেছেন।
তাই বেআমল ব্যক্তির অবশ্যই অধিকার আছে মন্দকাজ থেকে নিষেধ করার। তার অধিকার আছে উম্মাহকে নিয়ে চিন্তিত হওয়ার এবং চিন্তা প্রকাশ করার। তবে সে নিজের আরেকটি দায়িত্ব পালনের জন্য এবং তার দাওয়াতকে প্রভাবশালী করার জন্য নিজেও মন্দ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সচেষ্ট হবে।
