কুমড়া বড়িতে স্বপ্ন বুনছেন রাশেদা-আলামিনরা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০১:২২ পিএম

কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম পুন্ডরী গ্রামের নারী-পুরুষেরা। শীতের শুরুতে বেশি দামে বড়ি বিক্রির আশা তাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তৈরি করা বড়ি শুকানোর জন্য সারি সারি রোদে দেওয়া। নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরাও বড়ি তৈরির কাজ করছেন। 

বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ এংকার ডাল, মাসকালাইয়ের ডাল, খেসারির ডাল এবং মসলা। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাসকালাই ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। তারপর মিশ্রণে বড়ির উপকরণ তৈরি হয়। উজ্জ্বল রোদ, ফাঁকা স্থান ও বাড়ির আঙিনায় খোলা জায়গায় ভোর থেকে বড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়। টিন বা পাতলা কাপড়ে সারি সারি করে রোদে রাখা হয় শুকানোর জন্য। দুই থেকে তিন দিন টানা রোদে শুকাতে হয়। তারপরে তা খাওয়া বা বিক্রির উপযোগী হয়।

কারিগররা জানান, কুমড়া বড়ি দিয়ে বোয়াল, বাইম, কৈ, শিং অথবা শোল মাছের ঝোল বেশ মুখরোচক ও জনপ্রিয়। এটি বানানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। তবে চাহিদা বাড়ায় এখন সারা বছরই তৈরি করা হচ্ছে। কলম পুন্ডরী গ্রামের নারীরা সারা বছর ব্যস্ত বড়ি বানানোর কাজে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এটি হাত বদল হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। 

তারা জানায়, বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে বড়ি নিয়ে যায়। বড়ি তৈরির কারিগর পুন্ডরী গ্রামের রাশেদা বেগম বলেন, কুমড়া বড়ি বানানো তার ৮ বছরের অভিজ্ঞতা। মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। সেটি দিয়েই তার পরিবার চলে।

তিনি আরও জানান, আমাদের দেখে এলাকার আরও ১০ জন নারী এখন এই কাজ করেন। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বড়ি বানানোর ধুম পড়ে যায়। এখানকার বড়ি সুস্বাদু। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এগুলো সরবরাহ করা হয়।

কারিগর আলামিন শাহ জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই পেশায় তিনি। প্রতি কেজি বড়ি ১২০-১৫০ টাকা করে পাইকারি বিক্রয় করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়তই পাইকাররা এসে বড়ি কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন হাটেও খুচরা বিক্রয় করা হয় বড়ি।

বগুড়া জেলা থেকে বড়ি কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী মিল্টন আলী। তিনি জানান, এখানকার বড়ি সুস্বাদু ও বেশ ভালো। তাই চাহিদাও অনেক বেশি। অন্য জায়গার বড়ি কম দামে পাওয়া গেলেও নিতে চান না ভোক্তারা। তাই বেশি দাম হলেও ভালোটা নিতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম সামিরুল ইসলাম বলেন, পাইকাররা ছাড়াও তারা অনলাইন প্লাটফর্মে কুমড়া বড়ি বিক্রি করতে পারেন। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত