জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা গুরুতরভাবে লঙ্ঘণের অভিযোগে চীন, ইরান এবং রাশিয়াকে ‘উদ্বেগজনক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে থেকেই এই তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোমোরোস, ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, কিউবা, ইরিত্রিয়া ও তুর্কমেনিস্তান।
এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বেসরকারি আধা সামরিক বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপকেও ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং ইউক্রেনে এই বাহিনী কাজ করছে।
বিবৃতিতে ব্লিনকেন বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার এবং সরকারঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গোষ্ঠী কেবল ধর্মবিশ্বাসের অজুহাতে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করছে, হুমকি দিচ্ছে, কারাগারে বন্দি রাখছে এমনকি হত্যাও করছে। এই ধরনের নিপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চুপ থাকতে পারে না।’
তবে উদ্বেগজনক রাষ্ট্রের তালিকায় থাকা কোনো দেশ যদি এখান থেকে নিজেদের নাম মুছতে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা চায়, সেক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে আশা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত বৃহস্পতিবার ভিয়েনায় জাতিসংঘের দপ্তরগুলোতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানোভ চীন, ইরান ও রাশিয়াকে বিশ্বের বহু মেরুকেন্দ্রীক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি নতুন জোট বলে উল্লেখ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। তারপরই যুক্তরাষ্ট্র দেশ তিনটিকে ওই তালিকাভুক্ত করা ঘোষণা দিল।
চীন ও ইরান ও রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে একটি বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে উলিয়ানোভ লিখেছিলেন, ভিয়েনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চীন, ইরান ও রাশিয়াকে বহুপাক্ষিক কূটনীতির নতুন ট্রায়াঙ্গেল মনে হচ্ছে না?’
রাশিয়ার এই সিনিয়র কূটনীতিক বলেন, খুব সহজেই এই কাঠামোটির অনেক বড় হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের কথা নাও বলি, বিশ্বের অনেক দেশই বহু মেরুকেন্দ্রীক বিশ্বব্যবস্থা দেখতে চায় এবং তারা বিশ্বের ওপর একক কোনো দেশের আধিপত্যের ঘোর বিরোধী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এক মেরুকেন্দ্রীক বিশ্বব্যবস্থার দ্রুত পতন হচ্ছে এবং ওয়াশিংটনের সর্বগ্রাসী আচরণের বিরোধিতা করে একটি বহুমেরুকেন্দ্রীক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় চীন, রাশিয়া ও ইরান জোট বেধেছে।
