নিরাপত্তা হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক অস্থিরতা। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ২০০ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে দেশটি। যদিও জাতিসংঘ ও একাধিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, তিন মাসে গড়ান সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভে এর মধ্যে তিন শর বেশি মানুষের প্রাণ হারিয়েছে।
গত শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তিনি দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার তারিফ করেন।
'ঘরের বাইরে নারীরা বাধ্যতামূলক হিজাব পরার নীতি মানছে কি-না'- এটা দেখভালের দায়িত্বে থাকা নীতি পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় সেপ্টেম্বরের শেষদিক থেকে ইরানের অসংখ্য শহরে হিজাববিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়। এতে ইরানের সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেওয়ায় এবারের বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের ব্যাপক দমনপীড়নের মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খোমেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন; ইসলামী সরকার ব্যবস্থার অবসানে বারবার দাবি জানাচ্ছেন। এদিকে, দেশটির কর্তৃপক্ষ এ বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইসরায়েলসহ বিদেশি কয়েকটি রাষ্ট্রকে দায়ী করছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা মিজান জানায়, সাম্প্রতিক 'দাঙ্গা'য় ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অথচ সোমবারই ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর শীর্ষ একজন কমান্ডার আমিরআলি হাজিজাদেহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ৩০০ জনের মৃত্যুর কথা বলেন।
জাতিসংঘ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জাভেদ রেহমান জানান, বিক্ষোভে তিন শর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ৪০ শিশুও আছে। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বার্তা সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, ইরানে ৪৬৯ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে, যাদের ৬৪ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ৬১ সদস্যও মারা যান বলে জানায় তারা। গ্রেপ্তার হয়েছে ১৮ হাজার ২১০ বিক্ষোভকারী। সূত্র : রয়টার্স
