ছেলের উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় মানিকের বাবা-মা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৮ পিএম

পা দিয়ে লিখে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫সহ জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন কুড়িগ্রামের মানিক রহমান।

ঢাকার নটরডেম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

তার এই সাফল্যে বাবা-মাসহ স্বজনরা আনন্দিত হলেও নানান প্রতিবন্ধকতা মানিকের স্বপ্ন পূরণে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তার স্বপ্ন পূরণে মা-বাবাসহ স্বজনরা সরকারের পাশাপাশি সমাজের দানশীল ও বিত্তবান মানুষের কাছে দুটি কৃত্রিম দুটি হাতের আকুতি জানিয়েছেন। মানিকের এখন শুধুই প্রয়োজন এক জোড়া কৃত্রিম হাত।

শারীরিক প্রতিবন্ধী মানিক রহমান কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামে ওষুধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও মা প্রভাষক মরিয়ম বেগমের ছেলে।

মানিক রহমানের দুটো হাত নেই, একটি পা অন্যটির চেয়ে অনেকাংশে খাটো। তারপরেও পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়েননি। বাবা-মা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় নিজের আত্মবিশ্বাস ও মনোবলে তিনি পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ও  জেএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

মানিক রহমান বলেন, আমি এ বছর আল্লাহ রহমতে পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছি। এবং নম্বরের দিক দেখেও জেলায় প্রথম হয়েছি। আমার গল্পটাও এতটাও  সহজ ছিল না এর পেছনে অনেক গল্প আছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে আমি যখন প্রথম স্কুলে যাই কেউ আমাকে পাত্তা দিত না এমনকি স্যাররাও। পরে যখন প্রতি ক্লাসে ভালো রেজাল্ট করতাম। তখন আস্তে আস্তে আমার সঙ্গে মিশতে শুরু করলো সহপাঠীরা।

মানিক আরও বলে, আমি এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি নটরডেম কলেজে পরীক্ষা দেবো, সেখানে পড়ার খুব ইচ্ছা আছে আমার। যেহেতু বাইরে যাচ্ছি এতটাও  কিন্তু সহজ নয়। কেননা আমি তো শারীরিক প্রতিবন্ধী শারীরিক কাজগুলো তো করতে হবে। এই অবস্থায় যদি সরকার আমার পাশে দাঁড়াতো হয় তো ভবিষ্যৎ স্বপ্নটা পূরণে অনেক এগিয়ে যেতাম।

মানিক রহমানের বাবা মিজানুর রহমান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সে এখন ঢাকার নটরডেম কলেজে পড়তে চায় আমরা কীভাবে তাকে পড়াবো। সে তো আমাদের সহায়তা ছাড়া চলতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি মানিকের দুইটা কৃত্রিম হাতে ব্যবস্থা করে দিত আমরা সারা জীবন কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতাম।

মা মরিয়ম বেগম বলেন, বর্তমান তার যে সমস্যাগুলো আমি, তার বাবা ও ভাই সবাই মিলে তাকে সাহায্য করছি। তার টয়লেট সমস্যা, গোসল সমস্যা ও খাইতেও সমস্যা। একজনকে সব সময় তার সঙ্গে লেগে থাকতে হয়।  যেহেতু তার হাত দুইটার সংকট। সে জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে আবেদন জানাই সরকারের পাশাপাশি সমাজের দানশীল ও বৃত্তবান কেউ কোনোভাবে যদি তার কৃত্রিম দুটি হাতের ব্যবস্থা করতো তাহলে তার লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেকটা সহজ হতো।

ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী বলেন, মানিক ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। কেউ যদি সহযোগিতা করে তার কৃত্রিম দুই হাতের ব্যবস্থা করত তাহলে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত