ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়। কাতার ছেড়ে ইতোমধ্যেই নিজ দেশে ফিরেছেন ফুটবলাররা। কেউ কেউ গেছেন ছুটি কাটাতে। তবে ওই টাইব্রেকারে হারার স্মৃতি এখনও ভুলতে পারছেন না তারা।
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সতীর্থদের সঙ্গে কথোপকথন সামনে এনেছেন নেইমার। সেখান থেকেই আভাস পাওয়া যায় কতটা দুঃখে রয়েছেন তারা।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরি থেকে দেখা যায় নেইমারের সঙ্গে কথা হয়েছে থিয়াগো সিলভা, মার্কুইনোস এবং রদ্রিগোর।
থিয়াগোকে নেইমার লিখেছেন— 'মানিয়ে নিতেই হবে। এটাই জীবন। আমি খুব চেয়েছিলাম তোমাকে এই ট্রফিটা উপহার দিতে। তুমি, আমি এবং দানি (আলভেস) এই ট্রফি জেতার যোগ্য ছিলাম। কিন্তু ঈশ্বরের বোধহয় অন্য কোনও ইচ্ছা রয়েছে।'
থিয়াগোর উত্তর— 'যতটা ভেবেছিলাম তার থেকেও বেশি খারাপ লাগছে। ভাবতেই পারছি না আমরা হেরে গেছি! যখনই মনে পড়ছে তখনই কান্না পাচ্ছে। আশা করি ঠিক হয়ে যাব।'
নেইমারের উত্তর— 'টিভির দিকে তাকালেই রেগে যাচ্ছি। কী দুঃখের মুহূর্ত।'
মার্কুইনোসকে নেইমার লিখছেন— 'কেমন আছ? আমি তোমার একজন ফ্যান। তোমার সম্পর্কে যা ভাবি, সেটা একটা পেনাল্টি কোনও দিন বদলাতে পারবে না। আমি সব সময় তোমার পাশে আছি।'
মার্কুইনোস উত্তর দিয়েছেন— 'ধীরে ধীরে নিজেকে সামলাচ্ছি। সময়ই দুঃখ ভুলিয়ে দেবে। আমার সম্পর্কে ভাবার জন্য ধন্যবাদ। চেয়েছিলাম সব যাতে ঠিক থাকে। একটা পেনাল্টিতে তোমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল এটা ভাবতেই পারছি না। তবে আমাদের শক্ত হতে হবে। দেখা যাক ফুটবল আমাদের জন্যে কী নিয়ে অপেক্ষা করছে।'
নেইমার বলেছেন— 'আমিও তোমার মতোই ভাবি। সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমিও শক্ত থাকো। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাও।'
এরপর রদ্রিগোকে বার্তা পাঠিয়েছেন নেইমার। লিখেছেন, 'আমি তোমাকে বলতে চাই, তুমি একজন তারকা। তোমার ক্যারিয়ারের অংশ হতে পেরে গর্বিত। আমি যে তোমার আদর্শ এটা জানতে পেরে গর্বিত। তুমিও ব্রাজিলের একজন তারকা হয়ে উঠেছ। আমি ক্যারিয়ারে অনেক ভুল করেছি এবং শিক্ষা নিয়েছি। কখনও হাল ছাড়িনি। প্রতিবার নিজেকে ভাল করার চেষ্টা করেছি।'
নেইমার আরও লিখেছেন— 'শক্ত থাকো। সমালোচনা এবং চাপই তোমাকে শক্তিশালী করবে। তখন মনে রাখবে যে আমি বলেছিলাম, ‘তুমি একদিন ব্রাজিলকে ট্রফি জেতাবে। তোমার দারুণ সাফল্য কামনা করি। এখন ক’দিন সবকিছু থেকে দূরে থাকো। ছুটি কাটাও এবং শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসো।'
