সরকারি স্কুলে ভর্তিতে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩৬ পিএম

সরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি তালিকাতে নেত্রকোনা পৌর শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একজনের নাম তিনবার এবং আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালক) আরেকজনের নাম দুইবার পাওয়া গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণির এই দুজনের জন্মনিবন্ধন নম্বর ভিন্ন হলেও তাদের নাম, ছবি এবং অভিভাবকের নাম এবং মোবাইল নম্বর একই পাওয়া গেছে। বালক বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তালিকায় একজন ছাত্রীর নামও রয়েছে।

তালিকায় নাম না আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একাধিক জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে পছন্দের স্কুলে ভর্তির জন্য অভিভাবকরা এমন কাজ করেছেন।

এদিকে, বালিকা বিদ্যালয়ে দিবা শাখায় তিনবার নাম এসেছে আনিকা আক্তারের। তার বাবা মো. আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া ও মাতা মোছা. তাসলিমা আক্তার। তারা শেরপুরে জেলায় থাকেন।

আনিকা আক্তারের মা তাসলিমা আক্তার বহু আবেদনের বিষয়টি ফোনে স্বীকার করে বলেন, শেরপুরে থাকেন তারা। গাড়িতে আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে ফোন করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী সরকার জানান, সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনবার নাম আসা ছাত্রীর আপাতত ভর্তি নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, বালক বিদ্যালয়ে দিবা শাখায় দুইবার নাম আসা ছাত্র আবির আনোয়ার। তার বাবা মাজাহার আনোয়ার বাচ্চু ও মাতা হাসনা আক্তার (কাজল)। নেত্রকোনা পৌর শহরের পশ্চিম কাটলী এলাকায় তাদের বাসা। ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তাদের অবস্থান জানা গেছে।

আবির আনোয়ারের মা হাসনা আক্তার একাধিক আবেদনের বিষয়টি প্রথমে স্বীকার না করলেও পরবর্তীতে তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও আঞ্জুমান স্কুলে দুই শাখায় আবেদন করার কথা স্বীকার করেন। তবে একাধিক জন্মসনদের সংগ্রহের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।

আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন বলেন, দুইবার নাম আসা ছাত্রের একটি বাতিল হবে।

তালিকায় নাম না থাকা অভিভাবক সুমা পারভীন ও রোকেয়া ইসলাম এবং কাঙ্ক্ষিত স্কুলের তালিকায় নাম না থাকা অভিভাবক ফারজানা আক্তার ও মো. আ. রহিম আক্ষেপ করে বলেন, 'আমাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত অভিভাবকরা জালিয়াতি করে তাদের সন্তানের নামে পৃথক পৃথক জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে ভর্তির আবেদন করিয়েছেন। এধরণের কাজ না করলে আমাদের সন্তানের নাম লটারি তালিকার থাকার সম্ভাবনা ছিল। এতে অপেক্ষামান তালিকায় থাকা ভর্তি প্রত্যাশীরা লাভবান হবেন। তারা এমন জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি কামনা করেন।'

বিষয়টি নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশকে জানানো হলে তিনি জানান, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানিয়েছেন। একাধিক জন্মনিবন্ধন ব্যবহারকারী অভিযুক্ত অভিভাবকদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে ভর্তি হওয়া না হওয়ার বিষয়টি। একজন অভিভাবক তার সন্তানের নামে তিনটা জন্মনিবন্ধন করাতে পারেন না। এটা বেআইনি। তাদের আবেদন বাতিল করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত