স্কুল কমিটির অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধনে হামলা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৩ পিএম

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার সোদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বেতিল এলাকার বেতিল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা বুধবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করে।

তারা জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নানা অনিয়ম, দুনীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ছাত্র নির্যাতনের প্রতিবাদে বেতাল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।

তাদের অভিযোগ, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি, কর্মচারী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মানববন্ধনে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করে ব্যানার-ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। এ হামলায় ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মানববন্ধনকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া তিন পরীক্ষার্থীকে আটক করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে সোপর্দ করে। আটক ছাত্ররা হচ্ছে , নবম শ্রেণির ইমরান শেখ ও আলিফ হোসেন ও সপ্তম শ্রেণির আব্দুল্লাহ প্রামাণিক।

আহত শিক্ষার্থীরা হলো, ইমরান শেখ, আলিফ হোসেন, আব্দুল্লাহ প্রামাণিক, মিলন, হাবিবুর রহমান, মারুফ হোসেন, আজিজুল সরকার, হৃদয় আহমেদ, আইয়ুব আলী ও কাওসার আহমেদ।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি আটক তিন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অভিভাবকদের সামনে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করছে এমর খবরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আজুগড়া ফুটানির বাজার এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

এদিকে বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও ধারণ কালে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে এনায়েতপুর থানার এস আই প্রণয় কুমার প্রামানিক। এ সময় সাংবাদিক ও উপস্থিত সবাই উত্তেজিত হয়ে উঠলে পুলিশ সেখান থেকে সটকে পড়ে।

এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল্লাহ বিশ্বাস। এতে বক্তব্য রাখেন, নবম শ্রেণির নূর নবী, ছাত্রী নূরী খাতুন, অভিভাবক আব্দুল হালিম ও আক্তারুজ্জামান বাবু।

এদিকে এদিন দুপুরে শিক্ষার্থী আটকের খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। আর নিয়ম অমান্য করে অফিস কক্ষে শতাধিক লোকজনের উপস্থিতিতে আটক শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে সালিস বৈঠক চলছে।

আটক তিন ছাত্রের অভিভাবকরা জানান তাদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ জোরপূর্বক সাদা কাগজে মুচলেকা নেয়া হচ্ছে। এ সময় সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠক স্থগিত করে এ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, মানববন্ধনের নামে কতিপয় শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া আটক তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে সোপর্দ করলে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের ওপর কোন নির্যাতন করা হয়নি। নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

পরীক্ষা চলাকালে তিন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ রেখে জিজ্ঞাসাবাদ আইন সম্মত হয়েছে কি না জানতে চাইলে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, এদের পরীক্ষা পরে নেয়া হবে।

পরীক্ষা চলাকালে স্কুল অফিসে এ ধরনের মিটিং আইনসম্মত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।

অপরদিকে আটক আলিফ হোসেনের বাবা আল মামুন বলেন, আমার ছেলেকে কী কারণে আটক করা হয়েছে তা আমাকে জানানো হয়নি।

আহত শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ, আজিজুল সরকার, মারুফ হোসেন, হৃদয় হোসেন, আব্দুল্লাহ প্রামাণিক ও মিলন হোসেন জানায় ,এ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন শুরু করি। এ সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। তিনজনকে আটক করে তাদের অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ছাড়া এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে এ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সালামের মোবাইল নম্বরে একাধিক কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ অন্যায়ভাবে কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ছাত্র ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এসআই প্রণয় কুমার প্রামানিক এ থানায় নতুন এসেছেন। ফলে এখনো অনেককে চেনে না। ফলে ভুলবশত এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার এসআই প্রণয় কুমার প্রামানিক বলেন, উনি  যে সাংবাদিক তা আমি বুঝতে পারিনি। ফলে ভুল হয়ে গেছে।

এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত