বসার টুল না দেওয়ায় ‘ইলেকট্রনিক দোকান’ কর্মচারীদের পেটালেন শ্রমিক লীগ নেতা!

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:১২ পিএম

বসার টুল চেয়ে না পেয়ে ওয়ালটনের একটি শো-রুমে ঢুকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লা থানা  শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সেই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতার গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

জানা গেছে, কয়েক দিন পূর্বে ফতুল্লা থানার পাগলা বাজারস্থ কাজী প্লাজার নিচতলায় অবস্থিত ওয়ালটনের শো-রুম ‘ইউসা ইলেকট্রনিক’ দোকান থেকে বসার টুল চেয়ে পাঠান অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা নজরুল। দোকানে থাকা কর্মচারী আমজাদ লোকটিকে চিনতে না পেরে টুল দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

এতে নজরুল ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের ভেতর প্রবেশ করে কর্মচারী আমজাদকে মারধর করেন।

এ সময় মাসুদ নামক শো রুমের এক কর্মকর্তা এগিয়ে এলে তাকেও লাথি-ঘুষি মারে এমনকি চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন। এতে করে মাসুদের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন। পরে তাকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আহত মাসুদ মুঠোফোনে জানান, ৯ ডিসেম্বর দুপুর তাদের দোকানে একটি বসার টুল চেয়ে পাঠিয়েছিলেন নজরুল। অপর কর্মচারী চিনতে না পারায় টুল দেননি। এতে নজরুল দোকানে ঢুকে আমজাদ নামক এক কর্মচারীকে মারতে থাকে। এতে তিনি এগিয়ে এসে বাধা দিতে চাইলে তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। তার মাথায় বারোটি সেলাই লেগেছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, অপর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলায় তিনি এখন পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কিন্তু ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও মারধর করার কোন সুরাহা করেননি আবুল হোসেন। তাই সুস্থ হয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা নজরুল মুঠোফোনে মারধরে বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, দোকানের কর্মচারী বেয়াদবি করেছিল। ফলে তিনি উত্তেজিত হয়েছিলেন। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল সেদিন।

ভিডিও ফুটেজের কথা বললে তিনি বলেন, ‘অফিসে এসে সরাসরি কথা বলেন। ফোনে এ সব বিষয়ে কথা বলা যায় না বা ঠিকওনা বলে লাইন কেটে দেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত