বগুড়ায় ছাত্রলীগের ২ গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:২৪ পিএম

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে বিরোধের জেরে বিজয় দিবসের সকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শহরের টেম্পল সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর এ ঘটনা ঘটে। সে সময় দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে ও সাতমাথা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে, এঘটনার পর পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়লে নয়া কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছাত্রলীগ অফিসের তালা ভেঙে প্রবেশ করে।

এর আগে, ৭ নভেম্বর কমিটি ঘোষণার পর থেকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতারা বিক্ষোভ শুরু করে প্রথম দলীয় কার্যালয়ে পরে ছাত্রলীগ কার্যালয়ে তালা লাগায়।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বিজয় দিবসের সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা জাতীয় পতাকাসহ নিজ নিজ সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপরেই জেলা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা শ্লোগান শুরু করেন।

এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা শ্লোগান শুরু করলে, পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা তাদের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ও ধাওয়া দেন।

পরে কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে খোকন পার্কে শহীদ মিনারের ফুল দিতে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আওয়ামী লীগের সভাপতি ও  সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি মিছিল সাতমাথা চত্বরে হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এভাবে মিছিল-পাল্টা মিছিলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শেষে দলীয় কার্যালয়ে শুধু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

এরপরেই আবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক মাস নয়দিন পর দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আল মাহিদুল ইসলাম জয়।

হাতাহাতি ও ধাওয়ার বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের নেতৃত্বে যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদক ছাত্রলীগের রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের নির্দেশে নামধারী ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তরা ছাত্রলীগ অফিস তালাবদ্ধ রেখেছিল। ছাত্রলীগের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই আজ আমি ও সাধারণ সম্পাদক তালা খুলে প্রবেশ করেছি।

তিনি বলেন, আজকের দলীয় কার্যলয়ের সামনে যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বই হামলা করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা বার বার রাজনীতিতে সংঘাত তৈরির চেষ্টা করছে। তবে আর্দশ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার দিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর জেলা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ছাত্রলীগের উত্তেজনার বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত