কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। একটি ইউরোপের দল তো অপরটি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের। বিশ্বকাপের ছয় মাস আগে লাতিন অঞ্চলের ফুটবল নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে। তৃতীয় বিশ্বকাপ জিততে হলে ফাইনালে লাতিন অঞ্চলের দলকেই হারাতে হবে ফ্রান্সের।
বিশ্বকাপে কোন মহাদেশের দল এগিয়ে থাকবে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেছিলেন ‘ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা উঁচু মানের ফুটবল খেলে না। ইউরোপেরও কয়েকটি দল বেশ ভালো। সুবিধা হচ্ছে ইউরোপে সবসময় উঁচু মানের ফুটবল খেলা হয়। উদাহরণ হিসেবে, আমাদের নেশন্স লিগ আছে। যখন বিশ্বকাপ শুরু হবে তার আগেই আমরা প্রস্তুত থাকব। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইউরোপের মতো অতটা এগোতে পারেনি। এ কারণেই আপনি যদি সর্বশেষ বিশ্বকাপের দিকে তাকান, ইউরোপিয়ান দলগুলোই বেশি জিতেছে।’
এমবাপ্পের এমন মন্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন অনেক লাতিন ফুটবলারই। লিওনেল মেসিও বলেছিলেন তখন, ‘যখন আমরা বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলে স্পেনে ফিরি, তখন অনেক ফুটবলারকেই বলি জানো কী কঠিন আমাদের বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ। কলম্বিয়া, ভূপৃষ্ঠ থেকে অধিক উচ্চতার মাঠ, গরম, ভেনেজুয়েলা...। বড় প্রতিপক্ষ, বড় খেলোয়াড়ের কথা বাদই দিলাম, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে খেলাটাই খুব কঠিন।’ গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও একই কথা বলেছিলেন, ‘ইউরোপে তারা সব সময় নিখুঁত মাঠে খেলে। দক্ষিণ আমেরিকায় কী প্রতিকূলতার মধ্যে খেলতে হয়, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই।’
লাতিন ফুটবলও যে পিছিয়ে নেই তা হয়তো এমবাপ্পে বুঝে গেলেন আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায়। নিজ দেশকে জিতিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চাইবেন এমবাপ্পে। মেসিও তাই। এর আগে হওয়া ২১ বিশ্বকাপের ৯টি জিতেছে লাতিন অঞ্চলের দল। বাকি ১২টি শিরোপা গেছে ইউরোপের দেশে। আর এশিয়ায় এর আগে একমাত্র আয়োজিত বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল ব্রাজিল জার্মানিকে হারিয়ে।
