রাঙ্গাবালী সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ উপজেলার নাম। জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান। দ্বীপটির উত্তরে আগুনমুখা নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে তেঁতুলিয়া ও পশ্চিমে রাবনাবাদ নদী দ্বারা বেষ্টিত।
২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গাবালীকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর উপজেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়ে দশ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এখানকার লক্ষাধিক মানুষ ।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের স্পিডবোট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোটবাইশদিয়া গ্রামের স্বরণী বেগম (২২) ও জুলহাস মিয়া (৩০) দম্পতির তিন বছর বয়সী একমাত্র সন্তান জুমানা (৩) জ¦রে কাতর হয়ে মায়ের কোলে শুয়ে আছে। শিশুটিকে বাহেরচর বাজারে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় গ্রাম্য চিকিৎসক তাকে দ্রুত গলাচিপা নিয়ে যেতে বলে। অসহায় বাবা-মা স্পিডবোট ভাড়া করে তাদের শিশুকন্যাকে গলাচিপা উপজেলাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়ার জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছে।
স্বরণী বেগম বলেন, আমরা খুব গরিব। একমাত্র সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক কষ্ট করে টাকা ধার নিয়ে এখন গলাচিপা রওনা দিয়েছি। এই জায়গায় হাসপাতাল থাকলে আর দূরে যাওন লাগত না।
সদর ইউনিয়নের খালগোড়া খেয়াঘাটে দেখা যায়, দেড় বছরের শিশু জিসানকে নিয়ে খেয়া পার হয়ে উপজেলা সদরে যাচ্ছেন শিশুটির মা-বাবা আলিফা বেগম ও সুজন হাওলাদার। শিশুটির মা আলিফা বেগম জানান, হঠাৎ করে তার মেয়ের জ¦র ওঠে। ঠা-া লেগে শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এমনিতেই তারা দরিদ্র এবং বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করছেন। তাই বাধ্য হয়ে তাদের ছুটতে হয় গলাচিপা নয়তো কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ জনশুমারি হিসাব অনুযায়ী রাঙ্গাবালী উপজেলায় মোট জনসংখ্যা এক লাখ ১৮ হাজার। এরমধ্যে পুরুষ ৫৮ হাজার ৭০০ এবং মহিলা ৫৯ হাজার ৩০০ জন। অথচ চিকিৎসাসেবার জন্য রয়েছে চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এই পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঁচজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন তিন জন। তবে এই তিনজনই বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
অপরদিকে, চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লোকবল না থাকায় বন্ধ রয়েছে।
রাঙ্গাবালীর দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজি আব্দুল মমিন বলেন, রাঙ্গাবালীর রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে গলাচিপায় আসছে এবং এখানে তারা সেবা পাচ্ছেন।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন এসএম কবির হাসান বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে অধিগ্রহণ করা হয়েছে পাঁচ একর ভূমি।
