পার্ল হারবার থেকে ইউক্রেন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১২ পিএম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে হঠাৎ পার্ল হারবারে আক্রমণ করে বসে জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব ওই হামলার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। হামলার পরদিন জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক ওই ঘটনার সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের সাদৃশ্য পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চল্লিশের দশকের ওই ঘটনা বিশ্লেষণের পাশাপাশি সাদৃশ্যের দিক নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া 

হঠাৎ আক্রমণ     

‘পার্ল হারবারে বিমান হামলা হয়েছে। এটি কোনো সামরিক প্রশিক্ষণ নয়।’ ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে এই জরুরি বার্তা হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী হনলুলু থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠানো হয়। বার্তা প্রেরণকারীরা জানতেন, যারা এটি পড়বেন, হামলার ঘটনা তারা বিশ্বাস করবেন না, সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ ভেবে উড়িয়ে দেবেন। এ কারণে হামলা হয়েছে লিখে তারা ক্ষান্ত হননি; প্রশিক্ষণ যে নয়, তা দাঁড়ির পর যুক্ত করা দরকার বলে মনে করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অনেকে ধারণা করেছিলেন, জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই বাঁধলেও বাঁধতে পারে। সেই তারা পর্যন্ত পার্ল হারবারে হামলার খবরে বিস্মিত হন। তারা ভাবেননি সত্যি সত্যিই টোকিও থেকে চার হাজার মাইল দূরে প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে বোমা মেরে বসবে জাপানিরা। মার্কিন নৌবাহিনীর তৎকালীন সেক্রেটারি ফ্র্যাঙ্ক নক্স তাই হামলার খবরে চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘হায় ঈশ্বর! এ সত্যি হতে পারে না!’ ৭ ডিসেম্বরের হামলায় দুই হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত হন। আহত হন এক হাজার মার্কিনি। ধ্বংস হয় বহু সামরিক জাহাজ ও বিমান। যুক্তরাষ্ট্র পার্ল হারবারে হামলা আঁচ করতে না পারলেও জাপানের নেতারা কিন্তু কয়েক মাস ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, প্রশান্ত মহাসাগর যে আসলে জাপানই নিয়ন্ত্রণ করে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখিয়ে দেওয়া। পার্ল হারবারে হামলার পরদিন ৮ ডিসেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর তিন দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জার্মানি।

সাম্রাজ্য বিস্তার

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে জাপান তার সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করা শুরু করে। যেসব দেশে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, সেসব দেশ দখল করে সম্পদ লুণ্ঠন ছিল জাপানের সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রধান লক্ষ্য। কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে ১৮৯৪ সালে চীনকে পরাজিত করে জাপান। এরপর চীনের লিয়াওডং উপদ্বীপ ও মাঞ্চুরিয়ার কিছু অংশ জাপানের দখলে যেতে দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ে রাশিয়া। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জাপান চীনের আরও কয়েকটি অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। জাপানের সাম্রাজ্য বিস্তার দুর্বার গতিতে এগোতে থাকে। তাদের অগ্রগতি দুশ্চিন্তায় ফেলে যুক্তরাষ্ট্রকেও। দেশটি চায়নি, অঞ্চলের পর অঞ্চল দখলের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটিয়ে জাপান আরও শক্তিশালী হোক। জাপান সাম্রাজ্যবাদী শক্তিতে পরিণত হওয়ার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়া, যা তারা হতে দিতে চায় না। তাই জাপানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটিকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র। ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র যে জাপানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে, তা পছন্দ হয়নি জাপানের নেতাদের। তাদের যুক্তি, আমেরিকানদের কথায় কেন তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করেছে এবং এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন দখল করেছে?

১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান যে শুধু পার্ল হারবারে হামলা করেছিল, তা নয়। একই দিনে দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমের গুয়াম অঞ্চল ও এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেশ ফিলিপাইনেও হামলা চালায়। গুয়াম ও ফিলিপাইন উভয়ই সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে ছিল। এ ছাড়া সেদিন ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত হংকং, সিঙ্গাপুর ও মালয়-এও বিমান হামলা হয়। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে আক্রমণ চালায় জাপানিরা। অর্থাৎ ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ব্রিটিশনিয়ন্ত্রিত এলাকায় বড় ধরনের সমন্বিত আক্রমণ করে জাপানি সাম্রাজ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের এসব আক্রমণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হামলার পর গুয়াম, ফিলিপাইন, হংকং, সিঙ্গাপুর ও মালয় দখল করে জাপান আর থাইল্যান্ডকে অক্ষশক্তির (ইতালি, জার্মানি ও জাপান) হয়ে কাজ করতে বাধ্য করে। ফিলিপাইনে জাপানের দখলদারিত্ব টিকে ছিল তিন বছর। এই দেশটিকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কেন্দ্রস্থলে পরিণত করে জাপান। প্রাকৃতিক সম্পদ লুট ও সাম্রাজ্য বিস্তারের চিন্তা জাপানের পাশাপাশি জার্মানিরও ছিল। ১৯৩৯ সালে পোল্যান্ড আক্রমণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেছিলেন জার্মানির একনায়ক অ্যাডল্ফ হিটলারই। তিনি চেয়েছিলেন, ইহুদিবিদ্বেষ কাজে লাগিয়ে জার্মান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে। অন্যদিকে জাপান চেয়েছিল, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স ইউনিভার্সিটি-নিউ ব্রান্সউইকের ইতিহাস বিভাগের ডক্টরাল ক্যান্ডিডেট এরি কিটাডা বলেন, ‘সে সময় প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে তেলক্ষেত্র নিয়ে চিন্তিত ছিল শক্তিশালী দেশগুলো। এ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল তাদের মধ্যে। জাপানের সাম্রাজ্যবাদী আচরণ যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বেগে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর জাপানের তেল সরবরাহ অনেক কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দিক থেকে আরও কোণঠাসা হওয়ার ভয়ে দেশ দুটির নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে হামলার সিদ্ধান্ত নেয় জাপান।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান যে অঞ্চলগুলো দখল করেছিল, সেসব তাদের নিয়ন্ত্রণে যুদ্ধ পর্যন্তই ছিল। ১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা হামলা চালিয়ে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে যুক্তরাষ্ট্র। দুই শহরে বোমা হামলায় লাখ লাখ বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

পরিবর্তিত বিশ্ব

পার্ল হারবারে হামলার পর আট দশক পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে বিশ্ব। পূর্ব ও পশ্চিম দুই গোলার্ধেই জাতীয়তাবাদী ও কট্টর ডানপন্থি চিন্তা ও দলের উত্থান ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতা প্রেসিডেন্ট হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যায় ব্রিটেন। হাঙ্গেরি, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, গ্রিসসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জাতীয়তাবাদী। দেশগুলোর মধ্যে সহিষ্ণুতা আগের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। জার্মানিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশন্সের পরিচালক মার্ক লিওনার্ড বলেন, ‘পার্ল হারবার ও হিরোশিমা-নাগাসাকির ঘটনা বিশ্বনেতাদের অপরাধী করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তারা যা করেন, সেসব ঠিক ছিল কি নানিজেদের সেই প্রশ্ন করেন। খুব অল্প সময়ের ভেতর তাদের অপরাধবোধ ও মূল্যায়নের জায়গা দখল করে নেয় জাতীয়তাবাদ।’ জার্মানিতে হিটলারের উত্থান ও জাপানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতারা চুপচাপ ছিলেন কেন, দেশ দুটির বিরুদ্ধে কেন তারা কঠোর পদক্ষেপ নেননি, যার ফলে পার্ল হারবারের মতো ঘটনা ঘটলএসব প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মৌনতা অবলম্বনের একটি কারণ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি। ওই যুদ্ধে অনেক মার্কিনি প্রাণ হারান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতে আরেকটি যুদ্ধে জড়াতে চাননি মার্কিন নেতারা।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলার সপ্তাহখানেক পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন কংগ্রেসের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে আপনাদের নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে জাপান যেভাবে হামলা করেছিল, ঠিক একইভাবে ২৪ তারিখ ইউক্রেনীয়দের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রুশরা। মার্কিনিদের ওপর এক দিন বোমা হামলা হয় আর আমাদের প্রতিদিন রুশ হামলার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ৭ ডিসেম্বর সকালে আপনাদের আকাশ বিমান হামলায় কালো হয়ে যায়। সেদিনের ভয়াবহ ঘটনা স্মরণ করে আমাদের পাশে দাঁড়ান।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। এক ঘটনার সঙ্গে আরেক ঘটনার হুবহু মিল পাওয়া যায় না, তবে ধরনে মিল থাকে। চলমান রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধও এর ব্যতিক্রম নয়। এটির সঙ্গে ত্রিশের দশকের চীন-জাপান যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে। প্রথম সাদৃশ্য হলো, উভয় যুদ্ধে যুদ্ধের সূচনাকারীরা প্রতিপক্ষের শক্তি মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন হামলার পর দ্রুত ইউক্রেন দখল করতে পারবেন বলে ভেবেছিলেন। হামলার কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পতন ঘটানো যাবেএমনটা ধারণা করেছিলেন তিনি। প্রতিবেশী ছোট দেশ ইউক্রেন যে পশ্চিমাসহ অন্যান্য দেশের সামরিক সহায়তায় পাল্টা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, এটি তার হিসাবে ছিল না। একইভাবে ১৯৩৭ সালে জাপান যখন চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামল, টোকিও সে সময় বুঝতে পারেনি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। ১৯৪৬ সালে মার্কিন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সঙ্গে যুদ্ধ বড় আকার ধারণ করবে, তা জাপানের ধারণার বাইরে ছিল। টোকিওর সামরিক বিশেষজ্ঞরা সে সময় শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন, জাপানের দাবির সামনে দ্রুত নতি স্বীকার করবে চীন এবং জাপানের পুতুল সরকারে পরিণত হবে তারা।

ত্রিশের দশকে জাপান চীনের শক্তি অবমূল্যায়ন করেছিল আগের অভিজ্ঞতার কারণে। ত্রিশের দশকের একেবারে শুরুতে চীনের মাঞ্চুরিয়া অঞ্চল দখল করে জাপান। মাঞ্চুরিয়াকে চীনের থেকে বিচ্ছিন্ন করে সেটিকে পুতুল রাষ্ট্রে পরিণত করে দেশটি। চীনের তৎকালীন নেতা চিয়াং কাই-শেক জাপানের ওই আগ্রাসন ঠেকাতে পারেননি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সে সময় জাপানের আগ্রাসন নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। লিগ অব নেশন্সে জাপানের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা হলেও কোনো রকম সামরিক বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়তে হয়নি দেশটিকে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকেও জাপানিদের মতো পূর্ব অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে রণকৌশল ঠিক করতে দেখা যায়। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের উপদ্বীপ ক্রিমিয়া দখল করেন পুতিন। দেশের অভ্যন্তরে পশ্চিমাপন্থি ও রুশপন্থিদের রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে তৎকালীন ইউক্রেন সরকার রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

মাঞ্চুরিয়া দখলে নেওয়ার ঘটনা ও পরে চীনের উত্তরাঞ্চলে জাপান সরকারের আরও আগ্রাসী মনোভাব চীনাদের জাতীয়তাবাদী চেতনায় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করে। চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বে চীনের আপামর জনসাধারণ জাপানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তাদের সর্বাত্মক প্রতিরোধ বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের সহানুভূতি অর্জনে সক্ষম হয়। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ জাপানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি তারা চীনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তাও দেয়। ঠিক একইভাবে ক্রিমিয়া দখল ও পরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অনধিকারচর্চা ক্ষিপ্ত করে ইউক্রেনীয়দের। তার ওপর ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা চালালে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়। পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জাপান-চীন যুদ্ধের ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল তা সবাই জানে। এশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাতে মাথা না গলায় এজন্য পার্ল হারবারে হামলা চালিয়ে দেশটিকে সতর্ক করে জাপান। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটে। যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা মেরে যুদ্ধের ইতি টানে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরেও এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। এই যুদ্ধ কবে কীভাবে শেষ হবে, তা নিশ্চিতভাবে কেউই বলতে পারছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত