শেবাচিমে ১০ ডায়ালাইসিস মেশিন প্যাকেটবন্দি

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৬ পিএম

বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক এবং স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে চালু হয়েছিল কিডনি ডায়ালাইসিস কার্যক্রম। প্রতি শয্যায় দিনে দুজনের ডায়ালাইসিস প্রদানের সক্ষমতা রয়েছে ইউনিটটিতে। অথচ আবেদন থাকছে দশজনের অধিক।

চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিটটিতে আরও ১০টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন প্রদান করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় গত এক মাসেও সেগুলো চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এখানে প্যাকেট বন্দি অবস্থাতেই মালখানায় পড়ে আছে মেশিনগুলো। ফলে চালু থাকা ১০টি মেশিনে রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে যেখানে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চলছে সেখানে জায়গার সংকট। তাই নতুন ১০টি মেশিন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আলাদা স্থানে একসঙ্গে ২০টি ডায়ালাইসিস মেশিনের কার্যক্রম চালু করা হবে। এজন্য প্রস্তুতি চলছে।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একসময় বৃহত্তর এই হাসপাতালটিতে ছিল না কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের কোনো ব্যবস্থা। এমনকি কিডনি রোগীদের জন্য নামমাত্র ইউরোলোজি ও নেফ্রোলজি বিভাগ থাকলেও নেই স্বতন্ত্র ওয়ার্ড।

২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য দুটি হিমো ডায়ালাইসিস মেশিন, একটি ডিজিটাল রেডিওলজি (ডিআর) মেশিন, একটি পানি শোধন মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু মেশিন চালুর পরে হস্তান্তর না করায় ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে হিমো ডায়ালাইসিস মেশিন চালুর উদ্যোগ নিলেও মেশিনগুলো পড়ে থেকে অকেজো হয়ে যাওয়ায় সেটা আর সম্ভব হয়নি।

কিন্তু মহামারী করোনায় ২০২০ সালের ১২ মে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় মেডিসিন ব্লকে নতুন করে যাত্রা শুরু করে কিডনি রোগীদের জন্য নেফ্রোলজি বিভাগ। সেই থেকে বিভাগটিতে ১০টি শয্যায় প্রতিদিন ২০ জন রোগীকে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী রুমি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে এত সল্প খরচে কিডনি ডায়ালাইসিস শুধুমাত্র শেবাচিম হাসপাতালেই হয়ে থাকে। এর বাইরে এই সেবা পেতে রোগীদের ছুটতে হয় ঢাকায়। সেখানে খরচ যেমন বেশি, ভোগান্তিও অনেক। ১০টি নতুন মেশিন পেলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো চালু করতে পারিনি। কেননা ইউনিটের কার্যক্রম যেখানে চলছে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, যেখানে বর্তমানে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চলমান সেখানে আর কোনো মেশিন স্থাপন সম্ভব নয়। তাই নতুন ভবনে মেডিসিন বিভাগে এই কার্যক্রম স্থানান্তরের পরিকল্পনা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত