ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

আদালতের কর্মচারী ও আইনজীবীরা মুখোমুখি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৭ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কর্মচারীরা গতকাল বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ, কর্মচারীদের মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা এ কর্মবিরতি পালন করে।

কর্মবিরতির কারণে গতকাল সকাল থেকে আদালতের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। যে কারণে আদালতে কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এর আগে গত রবিবার থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা জজ) মোহাম্মদ ফারুকের আদালতে যাচ্ছেন না আইনজীবীরা। আইনজীবী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বার অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয় ওই বিচারকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ওই বিচারকের প্রত্যাহারও দাবি করা হয়। দাবি আদায়ে আইনজীবীরা গতকাল বেলা ২টার পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব আদালত বর্জন করেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মূলত একটি মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে আইনজীবী সমিতির নেতাসহ একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের বিত-া হয়। সময় পার হয়ে যাওয়ায় নিয়ম অনুসারে মামলাটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হন আইনজীবীরা। এ ঘটনায় ২৬ ডিসেম্বর সভা করে ১ জানুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা আইনজীবী সমিতি। এ ঘটনায় আদালতে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গত মঙ্গলবার বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন সভা করে গতকাল বুধবার থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়।

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আইয়ুব আলী ও সদস্য উজ্জ্বল ইসলাম বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের ৩০০ কর্মচারী বুধবার থেকে একযোগে কর্মবিরতিতে আছি। একটি মামলার ঘটনায় বিচারকের সঙ্গে শুধু নয়, কিছু আইনজীবী কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাজে ব্যবহার করে আসছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘কর্মচারীদের অভিযোগগুলো মিথ্যা। মূলত তারা অনৈতিক কর্মকা-ে অভিযুক্ত নাজির মুমিনকে রক্ষায় এ কর্মসূচি পালন করছে। কারণ মুমিনের অসাধু কার্যকলাপের বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানবীর ভূঞা বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে আইনজীবীরা বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের আদালত বর্জন করছেন। কর্মচারীরাও অনৈতিক কাজে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অনেক অভিযোগ। এসব অভিযোগ থেকে নিজেদের গা বাঁচাতে তারা কর্মবিরতি পালন করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত