সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬ হাজার ৮২৯টি। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৭১৩ জন এবং আহত ১২ হাজার ৬১৫ জন। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৩৩১টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২ হাজার ৮৯২টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১ হাজার ৬৪৮টি পথচারীকে চাপা-ধাক্কা দিয়ে, ৭৮৫টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করে এবং ১৭৩টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘২০২২ সালের সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বেসরকারি সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে নারী ১ হাজার ৬১ জন ও শিশু ১ হাজার ১৪৩ জন। ২ হাজার ৯৭৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৬২৭ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৪৮ জন, অর্থাৎ ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এ সময়ে ১৯৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ৩১৯ জন নিহত, ৭৩ জন আহত এবং ৯২ জন নিখোঁজ রয়েছে। ৩৫৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩২৬ জন নিহত এবং ১১৩ জন আহত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৩ হাজার ৯১ জন, বাসযাত্রী ৪২৭ জন, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি আরোহী ৪৫৩ জন, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ যাত্রী ২৬৮ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ১২৪৮ জন, নছিমন-ভটভটি-আলমসাধু-পাখিভ্যান-চান্দের গাড়ি-বোরাক-মাহিন্দ্র-টমটম ৩৯৩ জন এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশা ভ্যান আরোহী ২০৬ জন নিহত হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২ হাজার ৫৯৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২ হাজার ২০৫টি আঞ্চলিক সড়কে, ১ হাজার ১৮২টি গ্রামীণ সড়কে, ৭৮৪টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬২টি সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় যানবাহনের সংখ্যা হলো ১২ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে ট্রাক ২ হাজার ১২৪, বাস ১ হাজার ৫০৬, কাভার্ড ভ্যান ৩২৮, পিকআপ ৫৫১, ট্রলি ১৯৮, লরি ১৪৪, ট্রাক্টর ১৯৫, ড্রাম ট্রাক ১০৪, মাইক্রোবাস ২২১, প্রাইভেটকার ২৬৮, অ্যাম্বুলেন্স ৮৭, পাজেরো জিপ ২৩, মোটরসাইকেল ৩ হাজার ২৪৬ সহ অন্যান্য যাববাহন ৩ হাজার ২৩৪টি।
