লালমনিরহাটে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া স্কুল শিক্ষক নূরুল আমিনের খোঁজ মেলেনি। অপহরণের তিন দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত শিক্ষককে উদ্ধার কিংবা অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি।
অপহৃত শিক্ষক নূরুল আমিন (৫৫) জেলার আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি গ্রামের দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত শুক্রবার সকালের দিকে তাকে নামুড়ি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। ওইদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় পুলিশের কেউ তাকে তুলে আনেনি। অন্য কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এন এম শরিফুল ইসলাম বলেন, রবিবার (গতকাল) অপহৃত শিক্ষক নূরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করে আদিতমারী থানার অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
অপহৃতের পরিবার জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস ও সাদা রঙের একটি কার নামুড়ি গ্রামে শিক্ষক নূরুল আমিনের বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। পরে গাড়ি থেকে নেমে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল বাড়ির প্রধান ফটক টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে নূরুল আমিনের খোঁজ করতে থাকে। পরে নূরুল আমিনকে তার শয়ন কক্ষ থেকে বের করে এনে মারধর শুরু করে। এ সময় বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পল্লী চিকিৎসক চাচা আবু তালেব (৭০) ও ভাই স্কুল শিক্ষক রুহুল আমিনকে আঘাত করে। এক পর্যায়ে নূরুল আমিনকে গাড়িতে উঠিয়ে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। আদিতমারী থানার ওসি মোক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’
